কীভাবে নিজের মধ্যে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা যায়? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

0 টি ভোট
637 বার দেখা হয়েছে
"মনোবিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (2,030 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (28,340 পয়েন্ট)

সৃজনশীলতা হলো আমাদের শরীরের একটা অঙ্গের মতো। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেহের মাংসপেশিগুলোকে সুগঠিত করতে যেমন পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হয়, তেমনি সৃজনশীলতা বাড়াতে হলেও কিছু চর্চা প্রয়োজন। প্রত্যেক মানুষই নিজস্ব কিছু সৃজনশীলতা নিয়ে জন্মায়। আপনি যদি আপনার ভেতরের ‘শিল্পী’কে জাগিয়ে রাখতে পারেন, তাকে আরও পরিণত করতে পারেন, নিশ্চয়ই জীবনটা উপভোগ করবেন। আপনার পড়ার বিষয় যা-ই হোক, হোক ভূগোল কিংবা তড়িৎপ্রকৌশল; পেশাজীবনে আপনি যা-ই হোন না কেন, ব্যাংকের কর্মী বা গবেষক—সৃজনশীলতা নিশ্চয়ই আপনাকে ক্যারিয়ারে আরও এগিয়ে রাখবে। কোন চর্চাগুলো মানুষের সৃজনশীলতা বাড়ায়, সে প্রসঙ্গে ১০টি পরামর্শ দিয়েছেন হলিউডের অভিনেতা, গায়ক, নৃত্যশিল্পী, লেখক ও অভিনয় প্রশিক্ষক বার্নার্ড হিলার

১. নাচুন
৮ হাজার বছর ধরে ‘নাচ’ মানুষের অভিজ্ঞতার অংশ। নাচের মধ্য দিয়ে আপনি জীবনটাকে উদ্‌যাপন করেন। জীবন আপনাকে যে উপহারগুলো দিয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার একটা যোগাযোগ তৈরি হয়। নাচের মাধ্যমেই আপনি আপনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সৃজনশীলতার স্পন্দন টের পাবেন। কেননা যত প্রশ্নের উত্তর আপনি খুঁজছেন, সব লুকিয়ে আছে আপনার শরীরে। মনে রাখবেন, নড়ন-চড়ন ছাড়া কিছুই ঘটে না।

২. গান করুন
মনের ভেতরের আওয়াজটা বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে গান। ছোটবেলা থেকে আশপাশের মানুষ আপনার ওপর তাদের মতটা চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করবে, আপনার নিজস্ব ভাবনাটা কেড়ে নিতে চাইবে। জীবনটা নির্ভর করে যোগাযোগের ক্ষমতার ওপর। আপনি কীভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, মিশছেন? সেটাই বলে দেবে, আপনি কেমন জীবনযাপন করছেন। নিজের চাওয়া ও দাবিগুলো স্পষ্টভাবে বলতে হলে আপনার অবশ্যই একটা শক্তিশালী কণ্ঠস্বর থাকা চাই।

৩. লম্বা করে দম নিন
নিশ্বাস আছে মানে আপনি নিঃশেষ হয়ে যাননি। যতটা গভীরভাবে আপনি শ্বাস নেবেন, জীবনটাকেও ততটা গভীরভাবে উপলব্ধি করবেন। প্রতিদিন ১৫ মিনিট সময় নিয়ে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনুন। এর যেমন অনেক শারীরিক সুফল আছে, তেমনি এটা আপনার মনকেও প্রশান্তি দেবে। গভীরভাবে নিশ্বাস নিলে আপনি আশপাশটাকে বুঝতে পারবেন, বুঝবেন আপনার সঙ্গে কী ঘটছে, কেন ঘটছে। জীবনে সফল হতে হলে সবার আগে জানতে হয়, কোন বাধা আমাকে থামিয়ে দিচ্ছে।

৪. গান শুনুন
গান আমাদের অনুভূতিগুলোকে ছুঁয়ে দেয়। জীবনের স্পন্দনের সঙ্গে আমরা গানের স্পন্দনের মিল খুঁজে পাই। দৃশ্যমান পৃথিবী থেকে দূরে সরে অদেখা পৃথিবীকে অনুভব করতে সাহায্য করে গান। মনকে স্থির করতেও গান সাহায্য করে।

৫. প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে আপনার সংযোগ ঘটায় প্রকৃতি। প্রকৃতির কাছাকাছি গেলেই আপনি বুঝতে পারেন, আপনি কত বিশাল একটা কিছুর অংশ। আপনার চেনা-জানা গণ্ডির বাইরেও পৃথিবীটা অনেক বড়! বাইরের এবং ভেতরের সৌন্দর্য, দুটোই বুঝতে সাহায্য করে প্রকৃতির সংস্পর্শ। জীবনটাকে একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে শেখায় প্রাকৃতিক পরিবেশ।

৬. ছবি আঁকুন
যদি আপনি ছবি আঁকেন, এমন সব ‘আইডিয়া’ মাথায় উঁকিঝুঁকি দেবে, যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণাই ছিল না। ছবি আঁকার জন্য যদি সঙ্গে সব সময় একটা নোটবুক রাখেন, নতুন কোনো সৃজনশীল ভাবনা মাথায় এলেই আপনি চট করে সেটা টুকে রাখতে পারবেন।

৭. নিজের ভেতরের শিশুটাকে জাগিয়ে তুলুন
শিশুরা বিশ্বাস করে, সবকিছুই সম্ভব। তারা সব সময় বর্তমানে বসবাস করে। সবকিছু ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে এবং কল্পনাকে বিশ্বাস করতে ভয় পায় না। জীবনটাকে উপভোগ করার একটা সূত্র হলো, আজীবন ‘শিশু’ থাকা। ছোট বাচ্চারা প্রতিমুহূর্তে কিছু না কিছু আবিষ্কার করে। নিজের ভেতরের শিশুটাকে জাগিয়ে রাখুন। বিশ্বাস করুন—সবকিছুই সম্ভব। তাহলে জীবনটা উপভোগ করতে পারবেন।

৮. আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুন
জীবনে আনন্দ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সফল না হওয়ার পেছনে অন্যতম বাধা হলো, আমরা জীবনে আনন্দদায়ক মুহূর্ত তৈরি করার পেছনে খুব বেশি সময় দিই না। প্রতিদিন অন্তত তিনটি আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করুন। আপনি যখন অখুশি থাকেন, আপনার সৃজনশীলতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। সৃজনশীল ভাবনাগুলো আপনার ভেতরেই শেষ হয়ে যায়। আনন্দই আপনার ভেতরের সব সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।

৯. সহজাত প্রবৃত্তির ওপর আস্থা রাখুন
আপনার সহজাত গুণগুলোই আপনাকে সৃজনশীলতার পথ দেখাবে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। নির্ভয়ে আপনার উদ্ভাবনী ভাবনাকে অনুসরণ করুন। তবেই বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য আর অর্থ খুঁজে পাবেন।

১০. হাসুন
শরীরের পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে হাসি। হাসি আপনাকে আরও শক্তি দেয় এবং চাপ থেকে মুক্ত করে। যারা কঠিন কোনো অসুখে ভুগছে, চিকিৎসকেরা তাদের হাসতে উৎসাহিত করেন। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা হাসা উচিত। হাসিমুখের কিছু সামাজিক উপকারিতাও আছে। আশপাশে তাকালে দেখবেন, রসবোধসম্পন্ন মানুষেরা দ্রুত মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তাঁদের জীবন মানুষকে আকৃষ্ট করে। হাসি ছাড়া আপনি জীবনকে উপভোগ করতে পারবেন না।

সূত্র: হাফিংটনপোস্ট

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 510 বার দেখা হয়েছে
+2 টি ভোট
1 উত্তর 490 বার দেখা হয়েছে
+1 টি ভোট
1 উত্তর 348 বার দেখা হয়েছে
+1 টি ভোট
1 উত্তর 471 বার দেখা হয়েছে
30 অগাস্ট 2022 "রসায়ন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Turner (320 পয়েন্ট)

10,932 টি প্রশ্ন

18,639 টি উত্তর

4,750 টি মন্তব্য

883,818 জন সদস্য

79 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 79 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Taz_riyan

    260 পয়েন্ট

  2. Sui

    140 পয়েন্ট

  3. Darina

    120 পয়েন্ট

  4. ug88study

    100 পয়েন্ট

  5. sige77netph

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো #science মোবাইল ক্ষতি চুল চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য মহাকাশ স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান খাওয়া গরম #জানতে শীতকাল ডিম চাঁদ বৃষ্টি কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা আগুন লাল মনোবিজ্ঞান গাছ খাবার সাদা মস্তিষ্ক শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো পা উদ্ভিদ মন কি বিস্তারিত পাখি গ্যাস রঙ সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ ভাইরাস আকাশ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত বিড়াল গতি কান্না আম
...