মহাকাশের কসমিক রশ্মি কি?? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+5 টি ভোট
563 বার দেখা হয়েছে
"জ্যোতির্বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (4,640 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (28,310 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
মহাজাগতিক রশ্মি হলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে ওই সব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। কণার ওই বারিবর্ষণ এক অবিশ্রান্ত প্রক্রিয়া। মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে শতকরা ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ বিকিরণ এবং ২ ভাগ থাকে কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারি নিউক্লিয়াস। এগুলোই হলো প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মি। প্রায় আলোর বেগেই ওরা ছুটে চলে।

প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মির ওই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার যখন বায়ুমেন্ডলের বিভিন্ন পদার্থের নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তখন নতুন কণার সৃষ্টি হয়। নতুন কণাদের তখন বলা হয় সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মি। সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মির কণারাও প্রচন্ড বেগে ছুটে চলে। অন্যান্য পরমাণুর সঙ্গে ওদের আবার সংঘর্ষ হয় এবং আবার নতুন পদার্থ কণা ওরা সৃষ্টি করে। চলার পথে বহুবার সংঘর্ষ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পৃথিবী পৃষ্ঠে সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মির খুব কম সংখ্যক কণারাই এসে পৌঁছতে পারে। সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে প্রধানত পজিট্রন, নিউট্রন, মেসন, নিউট্রিনো প্রভৃতি। এ সব কণাদের বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক কণা।

এখন প্রশ্ন হলো মহাশূন্যে ওই মহাজাগতিক রশ্মির উৎস কোথায়? এটাই বিশ্বাস করা হয় যে অধিকাংশ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের বাইরে মহাশূন্যে ছায়াপথের নানা তারায়। মহাজাগতিক রশ্মির উৎস সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য সংগৃহীত হচ্ছে।

মহাজাগতিক রশ্মির সামান্য পরিমাণ বিকিরণ পৃথিবীর কোনো ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট নয়। কোটি কোটি বছর ধরে এই রশ্মি পৃথিবীকে আঘাত করে আসছে। কিন্তু তাতে পৃথিবীবক্ষের প্রাণীর খুব কম ক্ষতিই সাধিত হয়েছে। তাই বিশ্বাস করা হয় যে, মহাজাগতিক রশ্মি ক্ষতিকারক নয় (পৃথিবী পৃষ্ঠে)। তবে মহাশূন্যচারীদের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব থাকার সম্ভাবনা আছে। কারণ পৃথিবী পৃষ্ঠের চেয়ে শূন্যে মহাজাগতিক রশ্মির তীব্রতা অনেক অনেক বেশি।

- ইমরুল ইউসুফ
0 টি ভোট
করেছেন (9,000 পয়েন্ট)
ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। অস্ট্রিয়াতে গ্রাৎস এবং ইন্স‌ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার পর ১৯৩৮ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। মূলত নাৎসি বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতেই তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তার স্ত্রী ছিলেন ইহুদি। যুক্তরাষ্ট্রে গেলে তাকে ফর্ডহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিযুক্ত করা হয়। কিছুকাল পর তিনি একজন স্বাভাবিক মার্কিন নাগরিকের মর্যাদা লাভ করেন। বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক। মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

 

ঠিক কোন স্থানে ভিক্টর হেস এবং তাঁর ইলেক্ট্রোস্কোপ-সহ গরম-হাওয়া বেলুনটি অবতরণ করেছিল তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কিন্তু, যেটা ঘটেছিল, তা হল দু’জন সহকর্মী-সহ ঠিক ১০০ বছর আগে ভিক্টর হেস পূর্ব জার্মানির কোনও একটি ছোট শহরে নামেন। জনৈক চাষি একটি ঘোড়ায়-টানা গাড়িতে তিন জনকে পিসকো রেলস্টেশনে নিয়ে যান, যেখান থেকে তাঁরা বার্লিন অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। সেই সন্ধ্যাতেই তাঁরা ভিয়েনায় তাঁদের গৃহাভিমুখে পাড়ি দেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯১২ সালের ৭ আগস্ট। বেলুনটি ছিল একটি হাইড্রোজেন বেলুন যেটা উত্তর বোহেমিয়া থেকে পাড়ি দিয়ে উঠেছিল ৫,৩০০ মিটার উচ্চতায়; ভিক্টর হেস প্রমাণ পেলেন মহাশূন্যে ঘটিত তীক্ষ্ণ আয়োনীয় বিচ্ছুরণের। কসমিক রে বা নভোরশ্মি আবিষ্কৃত হল, হেস সম্মানিত হলেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরষ্কার পেয়ে।

 

১৯৩০ থেকে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে, মানুষের তৈরি কণা-ত্বরক (পার্টিকল অ্যাক্সিলিরেটর) যন্ত্র খুব উচ্চ শক্তিতে পৌঁছনোর আগে, উচ্চ-শক্তি পদার্থবিদ্যার গবেষণায় নভোরশ্মি ব্যবহৃত হত; ফলস্বরূপ, উপপরমাণু কণিকা আবিষ্কৃত হল- পজিট্রন এবং মুয়ন-সহ। নভোরশ্মি-গবেষণা বিশেষ ভাবে চালিত হল নভোপদার্থবিদ্যার বিভিন্ন দিকে - নভোরশ্মির উত্স, কী ভাবে তারা উচ্চগতি প্রাপ্ত হয়, ছায়াপথের গতিবিজ্ঞানে তাদের অবস্থান কী ইত্যাদি ।

 

সূত্র : বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিদ্যা ও ব্যাক্তিত্ব : ডঃ শঙ্কর সেনগুপ্ত, বেস্টবুকস

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+5 টি ভোট
1 উত্তর 279 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 128 বার দেখা হয়েছে
17 ফেব্রুয়ারি 2022 "জ্যোতির্বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Priom Chowdhury (2,630 পয়েন্ট)
+9 টি ভোট
2 টি উত্তর 247 বার দেখা হয়েছে
+5 টি ভোট
1 উত্তর 192 বার দেখা হয়েছে

10,750 টি প্রশ্ন

18,403 টি উত্তর

4,731 টি মন্তব্য

244,102 জন সদস্য

29 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 29 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. MIS

    1380 পয়েন্ট

  2. shuvosheikh

    330 পয়েন্ট

  3. তানভীর রহমান ইমন

    160 পয়েন্ট

  4. unfortunately

    120 পয়েন্ট

  5. Muhammad_Alif

    120 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান পৃথিবী চোখ রোগ রাসায়নিক শরীর রক্ত আলো #ask মোবাইল ক্ষতি চুল কী চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান সূর্য #science প্রযুক্তি স্বাস্থ্য প্রাণী বৈজ্ঞানিক মাথা গণিত মহাকাশ পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি #biology বিজ্ঞান খাওয়া গরম শীতকাল #জানতে কেন ডিম চাঁদ বৃষ্টি কারণ কাজ বিদ্যুৎ রাত রং উপকারিতা শক্তি লাল আগুন সাপ মনোবিজ্ঞান গাছ খাবার সাদা আবিষ্কার দুধ উপায় হাত মশা মাছ ঠাণ্ডা মস্তিষ্ক শব্দ ব্যাথা ভয় বাতাস স্বপ্ন তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন উদ্ভিদ কালো পা কি বিস্তারিত রঙ মন পাখি গ্যাস সমস্যা মেয়ে বৈশিষ্ট্য হলুদ বাচ্চা সময় ব্যথা মৃত্যু চার্জ অক্সিজেন ভাইরাস আকাশ গতি দাঁত আম হরমোন বাংলাদেশ বিড়াল
...