চোখের নিচে কালো হয় কেন? চোখের নিচের কালো দাগ নিরসনে কি কোন উপায় আছে? - ScienceBee Q&A
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন অথবা উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, নিয়মাবলি দেখে নিন।
x
+4 টি ভোট
520 বার দেখা হয়েছে
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (14.9k পয়েন্ট)

5 উত্তর

+5 টি ভোট
করেছেন (71.4k পয়েন্ট)
চোখের নিচে যে কালো দাগ, একে আন্ডার আই ডার্ক সার্কেল বলি। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় পেরিঅরবিটাল অথবা আনফ্রাঅরবিটাল বা পিগমেন্টেশন বা ডার্কেনিং বলে থাকি। এর সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, এর সঙ্গে কোনো জটিল মেডিকেল অবস্থা জড়িত নেই। এটি সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এটি হয়। এর কারণ কী? একটি হলো জিনগত কারণ। এটা জেনারেশন থেকে জেনারেশন পর্যন্ত যেতে পারে। দ্বিতীয়ত আরেকটি কারণ হলো, ঘুমের অভাব। ঘুম ঠিকমতো না হলে চোখের নিচে কালো দাগ বা কালচে ভাব আসতে পারে। তিন নম্বর হলো, পুষ্টির অভাব। রক্তস্বল্পতা, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এগুলো থাকলেও চোখের নিচে কালো দাগ হতে পারে। চার নম্বর হলো, বিশ্রামের অভাব। সেটি চোখের হতে পারে বা শরীরের হতে পারে। ইদানীং জীবনযাপনের ধরনটা এ রকম যে আমাদের চোখের চাপটা অনেক। আমরা ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকি অনেকক্ষণ। অনেক্ষণ এগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের নিচে কালো দাগ হতে পারে। মানসিক চাপ থেকেও চোখের নিচের কালো দাগ হতে পারে। ঘুমের অভাবে বা মানসিক চাপের কারণে রক্তের সঞ্চালন কমে যায়। তখন চোখের নিচে কালো দাগটা আসে। এরপর হলো অ্যালার্জি। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হোক, এরপর এটোপিক ডার্মাটাইটিস, একজিমা—কমন ডার্মাটাইটিস যাদের থাকে, তাদের এ সমস্যা হতে পারে। তাদের যেটি হয়, চোখের নিচে চুলকায়। নিয়মিত চোখ চুলকাচ্ছে, ঘষাঘষি করছে, এ কারণে সমস্যা হচ্ছে। একে আমরা সেকেন্ডারি পিআই বলে থাকি। পোস্ট ইনফ্লেমেটরি হাইপার পিগমেন্টেশন। আরেকটি হলো, অ্যানাটমিক্যাল ডিফেক্ট। আমাদের চোখের নিচে একটি গর্ত আছে। একে আমরা টিয়ার ট্রাফ্ট বলে থাকি। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ গর্তটা অনেক গভীর। গভীরতার কারণে ছায়া পড়ে। এটা দাগ নয়, তবে কালচে ভাবটা আসে। আরেকটি হলো, চর্বি। বয়সের সঙ্গে আমাদের শরীরে যে চর্বিটা থাকে সেটি। আবার দেখা যায়, চর্বি সরে যাচ্ছে। এটি সরে গেলেও একই ধরনের গর্তের প্রভাব পড়ছে। আরেকটি হলো, স্কিন ল্যাগজেটি। বলিরেখা পড়ছে। ত্বক ঝুলে যাচ্ছে। আরেকটি হলো, চোখের নিচে পেশি আছে, একে আমরা অরবিটরি মাসেল বলি। চোখের নিচে যে ত্বক এটি পাতলা হয়। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি পাতলা হয় এবং ট্রান্সলুসেন্ট হয়। এগুলো হলো কারণ।

Ntv

চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার দুই উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি।

 ১. শশা

 শশার মধ্যে রয়েছে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান এবং হালকা অ্যাসট্রিসজেন্ট উপাদান। এগুলো চোখের নিচের কালো দাগ দ্রুত দূর করতে কাজ করে। একটি শশাকে গোল করে কেটে ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে দিন। আক্রান্ত ত্বকে ১০ মিনিট এটি রাখুন। এবার জায়গাটি ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করুন। এ ছাড়া সমপরিমাণ শশা ও লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মাখুন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

 ২. কাঁচা আলু

 আলুর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং অ্যাজেন্ট। এটি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে উপকারী। পাশাপাশি এটি ত্বকের ফোলাভাব কমায়। একটা বা দুইটা আলুর খোসা ছিলে, কুচি করে এর রস বের করুন। একটি তুলার বলের মধ্যে ভেজান এবং বলটি চোখের ওপর দিন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখের পাতা ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের জন্য দিনে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। রস দেওয়ার পাশাপাশি, আলু গোল করে কেটেও চোখের ওপর দিতে পারেন।
করেছেন (620 পয়েন্ট)
right
+3 টি ভোট
করেছেন (14.9k পয়েন্ট)
Abrar Islam Ador

চোখের নিচে কালো হয় কারনঃ

চোখের নিচে কালো দাগ পড়াকে আন্ডার আই ডার্ক সার্কেল বলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে পেরিঅরবিটাল অথবা আনফ্রাঅরবিটাল বা পিগমেন্টেশন বা ডার্কেনিং বলে থাকে। এটি কোন জটিল সমস্যা নয়। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বিষয় কেবল।
ডার্ক সার্কেল অনেক কারণে হতে পারে।

একটি কারণ হলো জিনগত। এটা জেনারেশন থেকে জেনারেশনে দেখা দিতে পারে। দাদার ছিল, বাবার হয়েছে এখন আবার ছেলেরও হয়েছে, এমন।

দ্বিতীয়ত কারণ হলো পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। ঘুম ঠিকমতো না হলে চোখের নিচে কালো দাগ বা কালচে ভাব আসা শুরু হয়।

তৃতীয় কারণ হলো পুষ্টির অভাব। রক্তস্বল্পতা বা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এগুলো থাকলেও চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে যেতে পারে।

চতুর্থ কারণ হলো পরিপূর্ণ বিশ্রামের অভাব। সেটি চোখের হতে পারে বা শরীরের হতে পারে। আমাদের বর্তমান সময়ের জীবনযাপন এতই জ্যামযুক্ত যে আমাদের চোখের চাপটাও এইজন্য অনেক। আমরা দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকি। অনেক্ষণ এগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলে এবং এটি রীতিমত হয়ে উঠলে চোখের নিচে কালো দাগ হতে পারে।

পঞ্চম কারণ হলো মানসিক চাপ। অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করলে বা চিন্তায় থাকলে চোখের নিচের কালো দাগ হতে পারে। ঘুমের অভাবে বা মানসিক চাপের কারণে রক্তের সঞ্চালন কমে যায়। তখন চোখের নিচে কালো দাগটা চলে আসে।

ষষ্ঠ কারণ হলো অ্যালার্জি। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হোক, এটোপিক ডার্মাটাইটিস, একজিমা ও কমন ডার্মাটাইটিস যাদের থাকে, তাদের এ সমস্যা হতে পারে। এ সমস্ত রোগে আক্রান্ত বাক্তির চোখের নিচে চুলকায়। নিয়মিত চোখ চুলকানো ও ঘষাঘষি করার ফলে এ সমস্যা হতে পারে। একে সেকেন্ডারি পিআই বা পোস্ট ইনফ্লেমেটরি হাইপার পিগমেন্টেশন বলা হয়।

সপ্তম কারণ হলো অ্যানাটমিক্যাল ডিফেক্ট। আমাদের চোখের নিচে একটি গর্ত আছে। একে টিয়ার ট্রাফ্ট বলা হয়। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ গর্তটা অনেক গভীর। গভীরতার কারণে ছায়া পড়ে। এটা দাগ নয়, গর্ত ভেতরে হওয়া কারণে একটা কালচে ভাব আসে মাত্র।

অষ্টম কারণ হলো চর্বি। বয়সের সাথে সাথে আমাদের শরীরে কম বেশি চর্বি জমতে শুরু করে। এর কারণেও কালো একটা ভাব চোখের নিচে পড়তে দেখা যায়, চর্বি সরে গেলেও এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হয়। তাইও কালচে ভাব দেখা যায়।

নবম কারণ হলো স্কিন ল্যাগজেটি। বলিরেখা পড়লে বা ত্বক ঝুলে গেলে কালচে ভাব ফুটে উঠে। এইটা সাধারণত বয়স হলে দেখা যায়।

দশম কারণ হলো চোখের নিচে একধরনের পেশি আছে যার নাম অরবিটরি মাসেল। এই মাসলের কারণে চোখের নিচের ত্বক পাতলা হয়। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি পাতলা হয় এবং ট্রান্সলুসেন্ট হয়। যার কারণে চোখের নিচে কালো হয়ে যায়।
+3 টি ভোট
করেছেন (14.9k পয়েন্ট)
Abrar Islam Ador

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার জন্য করণীয়ঃ

শসাঃ সতেজ শসা স্লাইস করে কেটে আধ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করতে হবে। তারপর দশ মিনিট চোখের উপর রেখে দিতে হবে। তারপর পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে দিনে অন্তত দুবার, একটানা সাত দিন করে যেতে হবে। শসার সাথে লেবুর রস সমান পরিমাণ মিশিয়ে দিনে একবার করে সাত দিন ত্বকে মাখতে পারেন। এতে করে ত্বকের স্বাভাবিক রং ফিরে আসবে।

কাঁচা আলুঃ প্রথমে কাঁচা আলু ঠাণ্ডা করুন তারপর ব্লেন্ডার করে পেস্ট তৈরি করুন। সেই পেস্ট কালো দাগের উপর ১০-১৫ মিনিট মেখে রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহব্যাপী দিনে ১-২ বার ব্যবহার করলেই চলবে।

গোলাপ জলঃ প্রাকৃতিক ভাবেই গোলাপ জল আমাদের ত্বকের জন্য স্কিন টোনার হিসেবে কাজ করে। ছোট্ট পরিস্কার কাপড়ের টুকরা গোলাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন দেড়-দুই মিনিট। পুরো ভিজলে চোখ বন্ধ করে চোখের পাতার উপর ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। দিনে একবার করে টানা ১০ দিন ব্যবহার করলে চোখের স্বাভাবিক রং ফেরত আসবে।

টমেটোঃ এক চামচ টমেটোর রস এবং আধা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে তা চোখের নিচে মাখুন। এরপর ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। দিনে একবার বা দুইবার করে টানা সাত দিন ব্যবহার করুন।

আমন্ড ওয়েলঃ স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য আমন্ড ওয়েলের খ্যাতি আছে। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের নিচে হালকা আমন্ড ওয়েল মেখে শুয়ে পড়ুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রায় ২-৩ মাস এইভাবে করতে থাকুন।

একটা কথা মাথায় রাখবেন, চোখ ও চোখের আশেপাশের ত্বক অত্যন্ত স্পর্শকাতর বা সেন্সিটিভ তাই চোখের নিচের দাগ দূর করতে গিয়ে যেন চোখের কোন মারাত্মক সমস্যা না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। চোখের নিচে মাখতে গিয়ে যেন কোনো উপাদান চোখে ঢুকে না যায় সেটা অবশ্যই সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।
করেছেন (3.4k পয়েন্ট)
Dada , you commented it thrice !
0 টি ভোট
করেছেন (19.0k পয়েন্ট)
ঘুমের অভাবে  হতে পারে

পুষ্টির অভাবে হতে পারে

জিনগত ভাবেও হতে পারে

এলার্জি জনিত কারণেও হয়
0 টি ভোট
করেছেন (19.0k পয়েন্ট)
আক্রান্ত স্থানে শশা লাগালে কমতে পারে

আলুর ব্যাবহার ও করা যেতে পারে

এই বিষয়ে ইউটিইউব এ অনেক ভিডিও আছে দেখে নিতে পারেন

2.1k টি প্রশ্ন

2.2k টি উত্তর

4.0k টি মন্তব্য

40.1k জন সদস্য

19 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 19 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Audrita Roy

    24120 পয়েন্ট

  2. বিজ্ঞানের পোকা ৫

    22360 পয়েন্ট

  3. খালিদ সাইফুল্লাহ

    22260 পয়েন্ট

  4. Saniha

    10530 পয়েন্ট

  5. বিজ্ঞানের পোকা ৪

    5410 পয়েন্ট

মাসিক গিফট
১ম স্থান: ১০০ টাকা
২য় স্থান : ৭০ টাকা
৩য় স্থান: ৫০ টাকা

Welcome to Sciencebee Q&A, where you can ask questions and receive answers from other members of the community.
...