অয়মিয়াকন, যা বিশ্বের শীতলতম জনবসতিপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। সেখানে তাপমাত্রা নিয়মিত মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ১৯৩৩ সালে তা মাইনাস ৭১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ পোশাক এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক অভিযোজন ঔ স্থানে বসবাসকারী মানুষকে সহজে ফ্রিজ হতে দেয় না।তবে আপনি আমি সহজেই ফ্রিজ হয়ে যাবো!
অয়মিয়াকনের স্থানীয় বাসিন্দা বা ইয়াকুটদের শরীর কয়েক প্রজন্ম ধরে এই চরম ঠান্ডায় টিকে থাকার জন্য অভিযোজিত হয়েছে। তাদের বিপাক হার বেশি, যা শরীরে অধিক তাপ উৎপন্ন করে এবং তাদের শরীর তুলনামূলকভাবে সুগঠিত হওয়ায় তাপ ধরে রাখতে সুবিধা হয়। এছাড়া এদের বিশেষ রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া (vasodilation) চরম ঠান্ডাতেও হাত-পা জমে যাওয়া রোধ করে।
জীবনধারণের জন্য তারা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত চর্বি ও প্রোটিন (যেমন: মাছ, রেইনডিয়ারের মাংস, ঘোড়ার কলিজা) গ্রহণ করেন, যা শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তারা সিন্থেটিক কাপড়ের বদলে পশুর চামড়া ও পশমের তৈরি বিশেষ পোশাক পরেন যা শরীরের তাপ ধরে রাখে।
ঘরবাড়িগুলো প্রচণ্ডভাবে ইনসুলেটেড বা তাপবিরোধী থাকে এবং কয়লা বা কাঠের চুলা দিয়ে সব সময় গরম রাখা হয়। এমনকি গাড়ির ইঞ্জিনও সব সময় চালু রাখতে হয়, অন্যথায় তা জমে অকেজো হয়ে যায়।
তবে সব প্রাণী সেখানে জমে যায় না।স্থানীয় ইয়াকুট ঘোড়া, গরু ও রেইনডিয়ার এই প্রতিকূল জলবায়ুর সাথে প্রাকৃতিকভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে।