ভয়েজার ১ ও ২ এতদিন সূর্য থেকে এত দূরে গিয়ে আর কোনোকিছুর সাথে সংঘর্ষ না হয়ে টিকে আছে কিভাবে? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

0 টি ভোট
456 বার দেখা হয়েছে
"জ্যোতির্বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (470 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (470 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন
দুটো যানই মিনিমাল স্টেট এ রান করছে। অর্থাৎ এমন অবস্থা যেখানে এদের সর্বনিম্ন শক্তি খরচ হচ্ছে। ফলে সঞ্চিত শক্তি দীর্ঘসময় ব্যবহার করতে পারছে। যান দুটোকে বানানো হয়েছেই এমন কায়দায় যেন অবস্থা বুঝে স্লিপ আর হাইবারনেট মুড এ যেতে পারে। আর যানদুটো থেকে প্রতিদিন যে সংকেত পাঠানো হয় এমনটাও নয়।

ভয়েজার ১ ও ২ দুটোই সূর্য থেকে অনেক দূরে এটা সত্যি কিন্তু এর ভেতরের যন্ত্রাংশ এদের এখনো বিকল হতে দিচ্ছেনা।

দুটো যানেই ব্যবহৃত হয়েছে সময়ের প্রচলিত প্রযুক্তির চাইতে অনেক বেশি উন্নত এবং বিশেষ বিদ্যুৎ যন্ত্র যাকে Radioisotope Thermoelectric Generator (রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেক্ট্রিক জেনারেটর) বলে , যার মধ্যে থাকা Thermocouple (থার্মোকুপল) যন্ত্রাংশটি আন্তপারমাণবিক পর্যায়ে তাপ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তর করে। ফলে সঞ্চিত শক্তি দীর্ঘসময় ব্যবহার করা যায় নূন্যতম অবস্থায় নিয়ে গিয়ে।

এদের সচল থাকার আরো একটা বড় কারণ হচ্ছে মিনিমাল স্টেট এ খুবই অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ।বিদ্যুৎ খরচের বা Power Consumption এর ধারণা থাকলে জেনে অবাক হবেন যে যান দুটি নূন্যতম অবস্থায় গোটা একবছর চলতে মাত্র ৪ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করছে! যেখানে বসতবাড়ির একটা রেগুলার সাইজ বা ৫৬ ইঞ্চির ফ্যান গড়পড়তা ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে প্রতি ঘন্টায়...

এবার আসি কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সাথে সংঘর্ষ না হওয়া।

এর পেছনে তিনটা কারণ কাজ করেছে।

১. এদের আকার। সৌরজগতে ,বিশেষকরে Kuiper Belt নামক পাথুরে খন্ডের ঘিঞ্জি বলয় দূর থেকে দেখতে অনেক ঘিঞ্জি মনে হলেও বস্তুগুলোর মধ্যেকার ফাঁপা জায়গা অনেক। বিশেষকরে ভয়েজার ১ ও ২ এর আকারের কাছে এই ফাঁপা জায়গাগুলো যথেষ্ট বিশাল। ফলে ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়া সহজ।

২. নিতান্ত সৌভাগ্য। আমরা যেমনভাবেই বলিনা কেন, ভয়েজার ১ ও ২ উভয়েরই নিতান্ত সৌভাগ্য বটে। Kuipar Belt এর ঘিঞ্জিগুলোর ফাঁকফোকর ভয়েজারের জন্য বিশাল হলেও সংঘর্ষের সম্ভাবনা ছিল না যে তা কিন্তু নয়। অনেকটা Luck by Chance এর মতই বাধা বিপত্তি পেরিয়ে বেচারা যান দুটো এতদূর চলে যেতে পেরেছে।

৩. এদের প্রজেকশন প্যাথ পা প্রক্ষেপণ পথ নির্ধারণ।

মহাকাশে একটানা ছুটে যেতে আলাদাভাবে কোনো জ্বালানীর প্রয়োজন পড়ে না । মাঝেমাঝে দিক ঠিক রাখতে বিভিন্ন যান জ্বালানী দ্বারা সৃষ্ট ধাক্কা ব্যবহার করে থাকে যাকে Thrust বলে।

কিন্তু সুদীর্ঘ পথে চলতে গিয়ে সেই জ্বালানীও ফুরোবে। তাই ভরসা হচ্ছে এমন পথে যানকে নিক্ষিপ্ত করা যে পথে ঝুঁকি সবচে কম। ভয়েজারযুগলের গতিপথও প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল সেভাবে, যেন সেগুলো যতদূর পারা যায় সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়িয়ে বহুদূর পথ পাড়ি দিতে পারে।
0 টি ভোট
করেছেন (4,270 পয়েন্ট)

ভয়েজার ১ ও ২ এতদিন সূর্য থেকে এত দূরে গিয়ে আর কোনোকিছুর সাথে সংঘর্ষ না হয়ে টিকে আছে নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য:

  • তারা মহাকাশের একটি অত্যন্ত বিরল অঞ্চলে রয়েছে। সৌরজগতের বাইরে, মহাকাশে বস্তুগুলি খুবই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ভয়েজার ১ ও ২ এখন পর্যন্ত মহাকাশের একটি অঞ্চলে রয়েছে যেখানে প্রতি ঘন কিলোমিটার গড়ে মাত্র একটি বস্তু রয়েছে।
  • তারা খুব দ্রুত গতিতে চলছে। ভয়েজার ১ ও ২ এর গতি প্রতি ঘন্টায় প্রায় ৬১ হাজার কিলোমিটার। এই গতিতে তারা মহাকাশের মধ্য দিয়ে খুব দ্রুত যাত্রা করছে, তাই তাদের সংঘর্ষের সম্ভাবনা কম।
  • তারা খুবই শক্ত তৈরি। ভয়েজার ১ ও ২ এর দেহগুলি অ্যালুমিনিয়াম এবং টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি, যা মহাকাশের কঠোর পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী।

ভয়েজার ১ ও ২ এখনও মহাকাশের মধ্য দিয়ে যাত্রা করছে এবং তারা আরও অনেক বছর ধরে টিকে থাকতে পারে।

এখানে কিছু অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে যা ভয়েজার ১ ও ২ এর টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে:

  • ভয়েজার ১ ও ২ সৌরজগতের বাইরে একটি অঞ্চলে রয়েছে যা বলা হয় "উলফ-রাইট অঞ্চল"। এই অঞ্চলে, সৌর বায়ু খুব দুর্বল, তাই ভয়েজার ১ ও ২ এর গতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
  • ভয়েজার ১ ও ২ এর গতি তাদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের বাইরে যেতে সহায়তা করে। তারা এখনও সূর্যের মহাকর্ষের দ্বারা আকর্ষিত হয়, তবে তাদের গতি এত দ্রুত যে তারা সূর্যের চারপাশে ঘুরতে পারে না।
  • ভয়েজার ১ ও ২ এর দেহগুলি মহাকাশের কঠোর পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। তারা অতিবেগুনী রশ্মি, মহাজাগতিক রশ্মি এবং ধূলিকণা থেকে রক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ভয়েজার ১ ও ২ মহাকাশ অন্বেষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা আমাদের সৌরজগতের বাইরে মহাকাশ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান প্রসারিত করতে সাহায্য করেছে।

আশা করি উত্তরটি পেয়েছেন। আপনার যদি কোনো ফিরতি প্রশ্ন থাকে তাহলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। যদি আমার জানা থাকে, অবশ্যই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ!

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 323 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 303 বার দেখা হয়েছে

10,985 টি প্রশ্ন

18,699 টি উত্তর

4,750 টি মন্তব্য

899,957 জন সদস্য

206 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 206 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. 29dbetcom

    100 পয়েন্ট

  2. dylanhayes

    100 পয়েন্ট

  3. ff777vip66com

    100 পয়েন্ট

  4. u888band

    100 পয়েন্ট

  5. LinRocha0952

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো #science মোবাইল ক্ষতি চুল চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য মহাকাশ স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান খাওয়া গরম #জানতে শীতকাল ডিম বৃষ্টি চাঁদ কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রাত রং সাপ মনোবিজ্ঞান শক্তি উপকারিতা লাল আগুন গাছ মস্তিষ্ক খাবার সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় ঠাণ্ডা হাত মশা স্বপ্ন ব্যাথা ভয় তাপমাত্রা বাতাস গ্রহ রসায়ন কালো গ্যাস পা উদ্ভিদ পাখি রঙ সমস্যা মন কি বিস্তারিত বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ভাইরাস ব্যথা দাঁত হলুদ বিড়াল আকাশ সময় চার্জ অক্সিজেন গতি কান্না মুখ
...