ব্লাকহোলের ছবি কীভাবে তোলা হয়? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

0 টি ভোট
719 বার দেখা হয়েছে
"জ্যোতির্বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (7,950 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (7,950 পয়েন্ট)

কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল- দূর মহাকাশের এক অতি রহস্যময় বস্তু আর বর্তমান সময়ের মহাকাশ গবেষক আর আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানীদের আগ্রহের একপ্রকার কেন্দ্রবিন্দু। কৃষ্ণগহ্বরের ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য আর এর অজানা অনেক তথ্য নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চলমান রয়েছে। ব্ল্যাকহোল/ কৃষ্ণগহ্বর কে ঘিরে রয়েছে শত শত রহস্য।  এসকল রহস্য সমাধান কল্পে প্রতিনিয়ত কাজ চলমান রয়েছে। আশার কথা, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় গবেষকরা কৃষ্ণগহ্বর/ ব্ল্যাকহোল এর সম্পর্কে এখন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ধারনা রাখেন। পুরোপুরি জানা না গেলেও, কিভাবে ব্ল্যাকহোল/ কৃষ্ণগহ্বর গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থেকে কাজ করে এবং এর গড়ন আর প্রভাব কি রকম হয়- তা নিয়ে ভালো ধারণা গবেষকদের রয়েছে।

তবে রহস্যময় কৃষ্ণগহ্বরের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরো বিস্তর যে গবেষণার প্রয়োজন, তাতে একধাপ এগিয়ে গিয়ে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করে গবেষকরা ২০১৯ সালের ১০ই এপ্রিল তারিখে, যখন Messier 87 গ্যালাক্সির কেন্দ্রের ব্ল্যাকহোলের তোলা প্রথম ছবি প্রকাশিত হয়। সেই প্রথম মানবসভ্যতা সত্যিকারের কৃষ্ণগহ্বরের/ ব্ল্যাক হোলের ছবি দেখতে পায়, যা তখন পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্বে অবস্থান করছিল। পুনরায়, ১২ই মে, ২০২২ তারিখে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত Sagittarius A ব্ল্যাকহোলের প্রথম বাস্তব ছবি প্রকাশ করা হয়, যা ছিল মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আরো একটি অভাবনীয় সাফল্য। এতো দূরে অবস্থানরত ব্ল্যাকহোলের বাস্তব ছবি দেখার পর নিশ্চয়ই অনেকের মনে কৌতুহল জেগেছে, কীভাবে তোলা হয়েছিল বহুদূরে থাকা সেই ব্ল্যাকহোলের বাস্তব ছবি? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। Messier 87 গ্যালাক্সি আর মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি দুটির কেন্দ্রে অবস্থিত ব্ল্যাকহোল গুলোর ছবি ধারণ করতে বিশেষ একপ্রকার টেলিস্কোপ ব্যবহার করা হয়েছিল যার নাম হলো- "The Event Horizon Telescope" (EHT)। 

স্বাভাবিক ভাবে আমরা জানি, কোনো বস্তুর ছবি তোলার জন্য আলোর প্রয়োজন হয় আর বস্তু থেকে আলো ক্যামেরার লেন্সে এসে পড়লে তখনি সম্ভব হয় ছবি তোলার কাজ। তবে আমরা এখানে বলছি ব্ল্যাক হোলের কথা, যা তার প্রভাব বলয়ের চারদিকে থাকা সবকিছুকেই নিজের ভেতর নিশ্চিহ্ন করে দেয়- এমনকি ব্ল্যাক হোলের প্রভাব বলয় থেকে রক্ষা পায়না আলো ও! তাহলে আলো না থাকলে কীভাবে ছবি তোলা যাবে? 

মজার ব্যাপার হলো,  ব্ল্যাক হোলের চারপাশে গোল হয়ে রয়েছে প্রচুর আধান/চার্জ যুক্ত গ্যাসের/কণার এক বিশালাকার বলয়। বৃত্তাকার এই এলাকার নাম হলো ঘটনা দিগন্ত  বা ইভেন্ট হরিজন (Event Horizon) । আর এই আধান/চার্জ যুক্ত কণা/ গ্যাসের কারণে ব্ল্যাক হোলের চারপাশে তৈরি হয় বিশাল ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বক ক্ষেত্র। এই  চৌম্বক ক্ষেত্র? ম্যাগনেটিক ফিল্ড থেকে সবসময় এক ধরনের তরঙ্গ নিঃসৃত হতে থাকে, যা আসলে বৈশিষ্ট্যমূলক রেডিও তরঙ্গ। আর এই রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত করতে পৃথিবীর ৮ টি বিভিন্ন  অঞ্চলে বসানো হয়েছিল মোট ৮ টি শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ। যাদের সাহায্যেই ছবি তোলা হয়েছিল ব্ল্যাক হোল গুলোর। ব্ল্যাকহোলের এই ছবি সাধারণ কোনো ছবি নয়, বরং এটি আসলে অনেক সময় ধরে শনাক্তকৃত রেডিও তরঙ্গের সমাহার, যাদের একসাথে করে বিচার-বিশ্লেষণের পর মানুষের বোঝার উপযোগী ছবি হিসেবে তৈরি করা যায়।
 
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের প্রতিটি মানমন্দির থেকে রেডিও টেলিস্কোপ দ্বারা ধারণকৃত রেডিও তরঙ্গ  পর্যবেক্ষণগুলোকে একত্রিত করে, প্রায় ২০০জন গবেষকদের একটি দলকে ছবির তথ্যের প্রাপ্তির জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আর নির্ভুলতার সাথে সময়ও রেকর্ড করতে হয়েছে। এর জন্য গবেষকরা হাইড্রোজেন মেসার পারমাণবিক ক্লক ব্যবহার করেন, যা প্রতি ১০০ মিলিয়ন বছরে প্রায় এক সেকেন্ড হারায়। পরবর্তীতে সংগৃহীত তথ্যগুলো MIT Haystack Observatory এবং জার্মানির Max Planck Institute for Radio Astronomy তে এক বিশেষ ধরনের সুপার কম্পিউটারে প্রক্রিয়াকরণের জন্য স্থানান্তরিত করা হয়, যাকে কোরিলেটর বলা হয়। পরে, রেডিও তরঙ্গ থেকে পাওয়া  তথ্যগুলো একত্রিত করে তৈরি করা হয় প্রকাশিত হওয়া সেই বিস্ময়কর ব্ল্যাক হোলের ছবিগুলো। 

আজকের আলোচনা আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই জানাবেন। ব্ল্যাকহোল আর এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদেরকে জানাতে পারেন।

লেখক : তাসনিফ আহমেদ, Team Science Bee

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+3 টি ভোট
1 উত্তর 377 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 431 বার দেখা হয়েছে
+3 টি ভোট
2 টি উত্তর 746 বার দেখা হয়েছে
+5 টি ভোট
2 টি উত্তর 865 বার দেখা হয়েছে

10,899 টি প্রশ্ন

18,595 টি উত্তর

4,746 টি মন্তব্য

868,647 জন সদস্য

30 জন অনলাইনে রয়েছে
2 জন সদস্য এবং 28 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Muhammad Al-Amin

    540 পয়েন্ট

  2. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

    420 পয়েন্ট

  3. sportsmania6

    120 পয়েন্ট

  4. nowgoal5cocom

    100 পয়েন্ট

  5. bin88uknet

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো মোবাইল #science ক্ষতি চুল চিকিৎসা কী পদার্থবিজ্ঞান প্রযুক্তি সূর্য স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী মহাকাশ বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান গরম খাওয়া #জানতে শীতকাল ডিম বৃষ্টি চাঁদ কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা লাল মনোবিজ্ঞান আগুন গাছ খাবার মস্তিষ্ক সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো উদ্ভিদ পা মন কি বিস্তারিত রঙ পাখি গ্যাস সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত ভাইরাস বিড়াল আকাশ গতি কান্না আম
...