রাত জেগে দিনে ঘুম যাওয়া কতটা ক্ষতিকর? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+1 টি ভোট
82 বার দেখা হয়েছে
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (139,820 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (139,820 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর

মানুষসহ বেশ কিছু প্রাণী রাতে ঘুমায়। আবার বাঘ, সিংহ, শেয়াল, বাদুড়ের মতো প্রাণীদের জীবন ঘড়ির কাঁটা চলে আমাদের বিপরীতে। এরা রাতে জাগে, দিনে ঘুমোয়। 

এককোষী প্রাণী থেকে শুরু করে এই সবুজ গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব হোমো সেপিয়েন্স, বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় কাজকর্ম চলে এক নির্দিষ্ট ছন্দে। এরই নাম ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ অর্থাৎ ‘জীবন ঘড়ি’, বিজ্ঞানীরা বলেন ‘সার্কাডিয়ান রিদম’। এটি আদতে একটি শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ হয়। অনেকটা পৃথিবী যেমন নিজের কক্ষে ঘোরে, সেই রকমই প্রাণীদের অস্তিত্বকে এক অদৃশ্য ছন্দে বেঁধে দেয় এই প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির সময় থেকেই এই জীবন ঘড়ি চালু হয়েছে।

সারা দিনের কাজকর্ম এবং সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে দিনের বেলায় যে কোষগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে, রাতে ঘুমের সময় সেগুলি মেরামত হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ এই বায়োলজিক্যাল ক্লককে নিয়ন্ত্রণ করে। কোনও কারণে জীবন ঘড়ির কাঁটা জোর করে উল্টোদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করলে মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সারা দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে তার প্রভাব পড়ে, বললেন মেডিসিনের চিকিৎসক অর্পণ চৌধুরী। সারা দিন কাজকর্ম আর রাতে ঘুম— এটাই আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ। এই ছন্দেই কাজ আজীবন কাজ করে যায় দেহের প্রতিটি কোষ, শারীরিক প্রক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্র।

এক-আধ দিন রাতে ঘুম না হলে বা রাত জেগে কাজকর্ম করলে খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু কেউ যদি রাতের পর রাত জেগে কাজকর্ম করেন বা মোবাইল কিংবা ল্যাপটপে গেম খেলেন বা সোশ্যাল সাইটে আড্ডা দিয়েই চলেন, তাঁদের ঘুমের সময় বদলে যায়। হয়তো রাত ১টা বা ২টো পর্যন্ত জেগে খেলে আড্ডা দিয়ে তার পর ঘুমলেন, দিনে বেশি সময় ঘুমিয়ে নিলেন, এটা মোটেও ঠিক নয়। এতে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। খিটখিটে স্বভাব, বিষণ্ণতা, হঠাৎ ভীষণ রেগে যাওয়ার মতো অসুবিধের পাশাপাশি রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হার্টের সমস্যার মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি থাকে। সার্কেডিয়ান রিদম নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী— জেফ্রি সি হল, মাইকেল রসবাস এবং মাইকেল ডব্লিউ ইয়াং।

সার্কেডিয়ান রিদম বা বায়োলজিক্যাল ক্লক মানুষ সহ প্রাণীদেহের উপর কী ভাবে প্রভাব বিস্তার করে তার অনেক কিছু খুঁটিনাটি তথ্য তারা জেনেছেন সুদীর্ঘ গবেষণার পর। এই বিজ্ঞানী ত্রয়ী ফ্রুট ফ্লাই (কাটা ফল খোলা থাকলে যে ছোট্ট মাছি উড়ে বেড়ায়)-এর উপর গবেষণা করে জেনেছেন, এদের শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক নিয়ন্ত্রণকারী জিন থেকে এক বিশেষ প্রোটিন শরীরের কোষে কোষে জমা হয় রাতে। তাই ঘুম নেমে আসে। দিনের বেলায় ঘুম ভাঙলে আর কোষের মধ্যে প্রোটিন খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধু ফ্রুট ফ্লাই-ই নয়, মানুষ সহ সব প্রাণীর শরীরে ঘুম নেমে আসার এই একই ফর্মুলা।  নিয়ম মেনে রাতে ঘুম, দিনে কাজকর্ম—এই ছন্দ মেনে চললে শরীরের হজম শক্তি ঠিক থাকার পাশাপাশি, হরমোনের নির্দিষ্ট মাত্রা বজায় থাকে, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে এবং সমগ্র শারীরবৃত্তীয় কাজকর্ম নির্দিষ্ট ছন্দ মেনে চলে।

কোনও কারণে ঘুমের সময় বদলে গেলে শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লকের উপর চাপ পড়ে। পুরো সিস্টেমটাই ওলট পালট হয়ে বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলস্বরূপ বেড়ে যায় অসুখ-বিসুখের ঝুঁকি। তাই রাতের ঘুম রাতেই হোক, বেলা পর্যন্ত পড়ে পড়ে না সকালে ঘুম ভাঙুক। যাঁদের রাতের ডিউটি সেরে ভোর হয়ে যায় বিছানায় যেতে, তাঁরা চেষ্টা করুন ৫–৬ ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়ার। ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

তথ্যসূত্র : একুশে টিভি

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+9 টি ভোট
2 টি উত্তর 148 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 17 বার দেখা হয়েছে
+7 টি ভোট
1 উত্তর 78 বার দেখা হয়েছে
+10 টি ভোট
1 উত্তর 99 বার দেখা হয়েছে

8,161 টি প্রশ্ন

11,538 টি উত্তর

4,400 টি মন্তব্য

69,235 জন সদস্য

69 জন অনলাইনে রয়েছে
8 জন সদস্য এবং 61 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Md. Arafat Hasan

    7520 পয়েন্ট

  2. Tamanna Kawsar

    6560 পয়েন্ট

  3. Md Abdus Sami

    5740 পয়েন্ট

  4. Subrata Saha

    4790 পয়েন্ট

  5. অচেনা মানুষ

    3130 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ চোখ জীববিজ্ঞান পৃথিবী - শরীর কী মোবাইল এইচএসসি-আইসিটি রক্ত ক্ষতি চিকিৎসা আলো চুল মাথা প্রাণী মহাকাশ কারণ বৈজ্ঞানিক গরম পার্থক্য উপকারিতা পদার্থ প্রযুক্তি ডিম কেন স্বাস্থ্য খাওয়া বৃষ্টি শীতকাল কাজ রং সাপ #biology বিদ্যুৎ রাত সূর্য আগুন পদার্থবিজ্ঞান লাল সাদা খাবার ভয় দুধ মাছ হাত ব্যাথা শক্তি গাছ উপায় মশা গণিত ঠাণ্ডা বিজ্ঞান কি বৈশিষ্ট্য #জানতে মনোবিজ্ঞান আবিষ্কার ভাইরাস পা আম সমস্যা উদ্ভিদ গ্রহ কালো চাঁদ শব্দ রসায়ন #ask মেয়ে পাখি বাতাস স্বপ্ন কান্না বিস্তারিত নাক দাঁত হলুদ রঙ বাচ্চা মন ঔষধ মানসিক হরমোন বিড়াল চা চার্জ ফোবিয়া পাতা ব্যথা মস্তিষ্ক নখ তাপমাত্রা পাকা
...