Drinking Water (পানীয় জল) ও Mineral Water (মিনারেল জল) এর মধ্যে পার্থক্য কি ? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+1 টি ভোট
324 বার দেখা হয়েছে
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (19,880 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (19,880 পয়েন্ট)
প্রথমেই বলে রাখি, আমাদের প্রচলিত ধারণাটিকে আগে কোথাও বস্তাবন্দি করে রেখে পড়ুন। আমরা বাজারে বিক্রি সব জলকেই মিনারেল ওয়াটার বলে থাকি, তাই। হয়তো তফাৎ জেনেও অভ্যাস বশত বলে ফেলি! যাইহোক, এবার শুরু করি।

মিনারেল ওয়াটার আর ড্রিংকিং ওয়াটার দুটোই পান করা হয়। আর দুটোই বাজারে বোতলবন্দি করে বিক্রিও করা হয়। এবার তফাৎ গুলো বলছি।

মিনারেল ওয়াটার হলো সেই জল, যা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি না থাকার সময় মানুষ পান করতো। বুঝলেন? মানে ঝর্নার জল, নদীর জল, হ্রদের জল, সাথে ভূগর্ভস্থ জল। মানে এককথায়, প্রাকৃতিক জল যা যা পানযোগ্য, সবই মিনারেল ওয়াটার।

আর ড্রিংকিং ওয়াটার হলো, বর্তমানে উন্নতির নামে আমরা প্রাকৃতিক যা কিছু, সবই বিষিয়ে ফেলেছি, তাই তার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে এখন পান করার জন্যে যেই জল রান্না করতে হচ্ছে, সেই জল।

একটু গুলিয়ে যাচ্ছে জানি। সব পরিষ্কার হবে আস্তে আস্তে।

জীবের জন্য জলের গুরুত্ব নিশ্চই সবার জানা? কিন্তু জানেন কি অনেক খনিজ আছে সেগুলোও কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ?
সেই খনিযোগুলোর বেশিরভাগই আমরা পেয়ে থাকি জল থেকে। নিজেরাই মিশে থাকে আরকি। প্রকৃতি সব জেনেবুঝে মিশিয়ে রেখেছে আমাদের জন্য।
এই মাত্রাতিরিক্ত দূষণের আগে যেই জল পান করতাম, তার সাথেই ওগুলোর প্রয়োজন মিটে যেত বেশিভাগ।

খনিজ সমৃদ্ধ ওই প্রাকৃতিক পানযোগ্য জলকেই মিনারেল জল বলে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা মিলে কোন প্রাকৃতিক জলটাকে পানযোগ্য বলবো, তার একটা রূপরেখা দিয়েছেন। যেই প্রাকৃতিক জল ওদের নিয়মের মধ্যে তারা সবই মিনারেল জল।
আর দায়িত্ব নিয়ে টাকা খরচ করে দূষণ করার পর নদী বা হ্রদের হাল তো বেশ রঙিন করে দিয়েছি আমরা। তাই আরো টাকা খরচ করে এবার পানযোগ্য জল বানানো শুরু করেছি আমরা। কি মহৎ প্রাণী বলুন তো আমরা! সব পারি! ওই কৃত্রিম উপায়ে পানযোগ্য করা জল হল ড্রিংকিং ওয়াটার।
যাইহোক, এই জল বানানো টা ল্যাবে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন মিশিয়ে বানানো নয়। ওই রঙিন করে দেওয়া জল নিয়ে আমাদের মহান মস্তিষ্কপ্রসূত নানা কান্ডকারখানা করে শরীরের চাহিদা মেটাতে হয়।

যেমন ধরুন গঙ্গার ওই হলদে পোকাওয়ালা জল নিলাম। সেটাকে তারপর নানান ছা৺কনি দিয়ে ছেঁকে নিয়ে সাদা করে দিলাম। তারপর ওটাকে নানা রাসায়নিক দিয়ে পোকাগুলোকেও মেরে দিলাম! ব্যাস! তৈরি। প্রকৃতি আর শুদ্ধ জল না দিয়ে চাইলে হবে! আমরাই বানিয়ে নেবো। কি বলেন?
কিন্তু দুঃখের বিষয় মাঝ থেকে কিছু টাকা ফুটলো আর হলো কি জানেন? ওইযে বলছিলাম না, প্রকৃতি জলের মধ্যে অনেক মিনারেল মিশিয়ে রেখেছে? সেগুলো পেলাম না। যদিও পেলাম হয়তো তার পরিমাণ কমে গেলো যা দরকার তার থেকে। কিন্তু থোড়াই কেয়ার! সেটাও মিশিয়ে নিচ্ছি তো। বুদ্ধি কি কম নাকি?
ওই জন্যেই বোতলের জলে দেখবেন লেখা থাকে "অ্যাডেড মিনারেল"।

এইসব করেই চলে যাচ্ছিল বেশ!

কিন্তু ব্যবসায়িক বুদ্ধিও কম নেই আমাদের। তাই কিছু অতি দরদী মানুষ বললেন যে তোমাদের সেই হিমালয় থেকে প্রকৃতির জল এনে খাওয়াবো। কেউ বললো ঝর্না থেকে আনবে। ঠিক আছে , যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু হলো মিনারেল জলের বোতল ব্যবসা! দাম? সে নহয় ড্রিংকিং ওয়াটার এর থেকে কয়েকগুন বেশিই দেবেন কিন্তু দেখুন কোনখানে একটু শুদ্ধ জল রেখে দিয়েছে প্রকৃতি সেটার খবর নিয়ে এনে দেওয়া টা কি কম কষ্টের?
এই হলো জলের খবর।

এইসব দেখে শুনে সরকার বাহাদুর অনেক নিয়ম বের করেছেন। কিযেন বলে, আই এস মার্কিং নাকি!

তাতে সোজা বলা আছে বাবু, ড্রিংকিং ওয়াটার নিয়ে যা খুশি করো বাবু কিন্তু মিনারেল ওয়াটার নিয়ে কিছু এদিক ওদিক নয়। মানে ড্রিংকিং জলকে আরো বেশি ড্রিংকিং জল করার জন্যে আমাদের বলে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো করতে পারো যেমন ছাঁকা, আর ও, ইউ ভি, ওজোন পাস, দরকার মতো কিছু খনিজ মিশিয়ে দেওয়া সব চলবে

তারপরই আবার দরদী প্রকৃতির জলের সরবরাহকারীদেরও দেওয়া হয়েছে হুঁশিয়ারি! কোনো কিছু করা যাবেনা। শুদ্ধতা বজায় রাখতে হবেই। শুধু বড়োজোর খারাপ জিনিস গুলোকে একটু বের করে দিতে পারো, যদি থাকে। যেমন টুকটাক আর্সেনিক বা এরকম কিছু। কিন্তু নুন থেকে সালফার সব রেখে দিতে হবে। আর যেহেতু বোতলে ভরবে, তাই কার্বনডাই অক্সাইড ভরার পারমিশন দিয়েছে। কেননা ওটা ভরে দিলে টুকটাক জীবাণু থেকেও থাকলে সেগুলো অক্সিজেন না পেয়ে মরে যাবে বা আর বাড়তে পারবেনা।

©সূর্যকান্ত
0 টি ভোট
করেছেন (8,970 পয়েন্ট)
প্রথমেই বলে রাখি, আমাদের প্রচলিত ধারণাটিকে আগে কোথাও বস্তাবন্দি করে রেখে পড়ুন। আমরা বাজারে বিক্রি সব জলকেই মিনারেল ওয়াটার বলে থাকি, তাই। হয়তো তফাৎ জেনেও অভ্যাস বশত বলে ফেলি! যাইহোক, এবার শুরু করি।

 

মিনারেল ওয়াটার আর ড্রিংকিং ওয়াটার দুটোই পান করা হয়। আর দুটোই বাজারে বোতলবন্দি করে বিক্রিও করা হয়। এবার তফাৎ গুলো বলছি।

 

মিনারেল ওয়াটার হলো সেই জল, যা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি না থাকার সময় মানুষ পান করতো। বুঝলেন? মানে ঝর্নার জল, নদীর জল, হ্রদের জল, সাথে ভূগর্ভস্থ জল। মানে এককথায়, প্রাকৃতিক জল যা যা পানযোগ্য, সবই মিনারেল ওয়াটার।

 

আর ড্রিংকিং ওয়াটার হলো, বর্তমানে উন্নতির নামে আমরা প্রাকৃতিক যা কিছু, সবই বিষিয়ে ফেলেছি, তাই তার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে এখন পান করার জন্যে যেই জল রান্না করতে হচ্ছে, সেই জল।

 

একটু গুলিয়ে যাচ্ছে জানি। সব পরিষ্কার হবে আস্তে আস্তে।

 

জীবের জন্য জলের গুরুত্ব নিশ্চই সবার জানা? কিন্তু জানেন কি অনেক খনিজ আছে সেগুলোও কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ?

সেই খনিযোগুলোর বেশিরভাগই আমরা পেয়ে থাকি জল থেকে। নিজেরাই মিশে থাকে আরকি। প্রকৃতি সব জেনেবুঝে মিশিয়ে রেখেছে আমাদের জন্য।

এই মাত্রাতিরিক্ত দূষণের আগে যেই জল পান করতাম, তার সাথেই ওগুলোর প্রয়োজন মিটে যেত বেশিভাগ।

 

খনিজ সমৃদ্ধ ওই প্রাকৃতিক পানযোগ্য জলকেই মিনারেল জল বলে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা মিলে কোন প্রাকৃতিক জলটাকে পানযোগ্য বলবো, তার একটা রূপরেখা দিয়েছেন। যেই প্রাকৃতিক জল ওদের নিয়মের মধ্যে তারা সবই মিনারেল জল।

আর দায়িত্ব নিয়ে টাকা খরচ করে দূষণ করার পর নদী বা হ্রদের হাল তো বেশ রঙিন করে দিয়েছি আমরা। তাই আরো টাকা খরচ করে এবার পানযোগ্য জল বানানো শুরু করেছি আমরা। কি মহৎ প্রাণী বলুন তো আমরা! সব পারি! ওই কৃত্রিম উপায়ে পানযোগ্য করা জল হল ড্রিংকিং ওয়াটার।

যাইহোক, এই জল বানানো টা ল্যাবে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন মিশিয়ে বানানো নয়। ওই রঙিন করে দেওয়া জল নিয়ে আমাদের মহান মস্তিষ্কপ্রসূত নানা কান্ডকারখানা করে শরীরের চাহিদা মেটাতে হয়।

 

যেমন ধরুন গঙ্গার ওই হলদে পোকাওয়ালা জল নিলাম। সেটাকে তারপর নানান ছা৺কনি দিয়ে ছেঁকে নিয়ে সাদা করে দিলাম। তারপর ওটাকে নানা রাসায়নিক দিয়ে পোকাগুলোকেও মেরে দিলাম! ব্যাস! তৈরি। প্রকৃতি আর শুদ্ধ জল না দিয়ে চাইলে হবে! আমরাই বানিয়ে নেবো। কি বলেন?

কিন্তু দুঃখের বিষয় মাঝ থেকে কিছু টাকা ফুটলো আর হলো কি জানেন? ওইযে বলছিলাম না, প্রকৃতি জলের মধ্যে অনেক মিনারেল মিশিয়ে রেখেছে? সেগুলো পেলাম না। যদিও পেলাম হয়তো তার পরিমাণ কমে গেলো যা দরকার তার থেকে। কিন্তু থোড়াই কেয়ার! সেটাও মিশিয়ে নিচ্ছি তো। বুদ্ধি কি কম নাকি?

ওই জন্যেই বোতলের জলে দেখবেন লেখা থাকে "অ্যাডেড মিনারেল"।

 

এইসব করেই চলে যাচ্ছিল বেশ!

 

কিন্তু ব্যবসায়িক বুদ্ধিও কম নেই আমাদের। তাই কিছু অতি দরদী মানুষ বললেন যে তোমাদের সেই হিমালয় থেকে প্রকৃতির জল এনে খাওয়াবো। কেউ বললো ঝর্না থেকে আনবে। ঠিক আছে , যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু হলো মিনারেল জলের বোতল ব্যবসা! দাম? সে নহয় ড্রিংকিং ওয়াটার এর থেকে কয়েকগুন বেশিই দেবেন কিন্তু দেখুন কোনখানে একটু শুদ্ধ জল রেখে দিয়েছে প্রকৃতি সেটার খবর নিয়ে এনে দেওয়া টা কি কম কষ্টের?

এই হলো জলের খবর।

 

এইসব দেখে শুনে সরকার বাহাদুর অনেক নিয়ম বের করেছেন। কিযেন বলে, আই এস মার্কিং নাকি!

 

তাতে সোজা বলা আছে বাবু, ড্রিংকিং ওয়াটার নিয়ে যা খুশি করো বাবু কিন্তু মিনারেল ওয়াটার নিয়ে কিছু এদিক ওদিক নয়। মানে ড্রিংকিং জলকে আরো বেশি ড্রিংকিং জল করার জন্যে আমাদের বলে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো করতে পারো যেমন ছাঁকা, আর ও, ইউ ভি, ওজোন পাস, দরকার মতো কিছু খনিজ মিশিয়ে দেওয়া সব চলবে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+1 টি ভোট
2 টি উত্তর 197 বার দেখা হয়েছে
+10 টি ভোট
4 টি উত্তর 13,031 বার দেখা হয়েছে
+4 টি ভোট
2 টি উত্তর 499 বার দেখা হয়েছে
+9 টি ভোট
5 টি উত্তর 670 বার দেখা হয়েছে
11 ডিসেম্বর 2020 "প্রযুক্তি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Zubayer Mahmud (11,190 পয়েন্ট)
+1 টি ভোট
2 টি উত্তর 445 বার দেখা হয়েছে

9,812 টি প্রশ্ন

16,298 টি উত্তর

4,599 টি মন্তব্য

145,797 জন সদস্য

103 জন অনলাইনে রয়েছে
11 জন সদস্য এবং 92 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. ইমরান হোসেন

    260 পয়েন্ট

  2. Nadia

    180 পয়েন্ট

  3. alamin162455

    140 পয়েন্ট

  4. NasimAhmed

    120 পয়েন্ট

  5. Abid Hasan

    120 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান - পৃথিবী জীববিজ্ঞান চোখ রোগ পদার্থ শরীর রক্ত আলো কী মোবাইল ক্ষতি চুল চিকিৎসা এইচএসসি-আইসিটি মহাকাশ মাথা বৈজ্ঞানিক পদার্থবিজ্ঞান সূর্য স্বাস্থ্য পার্থক্য রাসায়নিক প্রযুক্তি প্রাণী খাওয়া গণিত বিজ্ঞান কেন #ask #biology ডিম শীতকাল গরম কারণ #জানতে বৃষ্টি রং চাঁদ উপকারিতা আগুন বিদ্যুৎ কাজ লাল রাত সাদা সাপ গাছ শক্তি #science দুধ উপায় হাত মনোবিজ্ঞান ব্যাথা খাবার ভয় আবিষ্কার মশা মস্তিষ্ক শব্দ মাছ ঠাণ্ডা গ্রহ কি উদ্ভিদ কালো স্বপ্ন পা বৈশিষ্ট্য সমস্যা বাতাস রঙ বিস্তারিত পাখি হলুদ মন রসায়ন মেয়ে গ্যাস ভাইরাস বিড়াল ব্যথা আম পাতা আকাশ তাপমাত্রা ঔষধ নাক মৃত্যু চার্জ দাঁত কান্না হরমোন বাচ্চা
...