চোখে ছানি পড়ে কেন? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+4 টি ভোট
167 বার দেখা হয়েছে
"বিবিধ" বিভাগে করেছেন (133,430 পয়েন্ট)

1 উত্তর

+1 টি ভোট
করেছেন (13,060 পয়েন্ট)
চোখের সাহায্যে আমরা পৃথিবী দেখি। সেই চোখে যখন অসুখ হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত হবে। এবং এই সব অসুখের ভেতর চোখের ছানি পড়া সবচেয়ে পরিচিত ও বেশিমাত্রায় হওয়া অসুখ। একটি হসপিটালের চক্ষু বিভাগে যত রোগী আসেন তার আশি শতাংশই চোখে ছানি পড়ার সমস্যা নিয়ে আসেন।

ছানি কী : আমাদের চোখের ভেতর ক্রিস্টালের মতো পরিষ্কার লেন্স থাকে। এটি দিয়ে আমরা দূরে-কাছের দৃশ্য সমন্বয় করি। এটিতে কোনো অস্বচ্ছতা তৈরি হলে একে আমরা ছানি বলি। এটি সাধারণত ঘোলাটে ও সাদা রঙের হয়।

ছানির লক্ষণ : চোখে ঝাপসা দেখা, লেন্সের রং ঘোলা হয়ে যাওয়া, একটি জিনিস দুইটি দেখা, অন্ধকারে কম দেখা, রঙের বোধ কমে যাওয়া।

কাদের বেশি হয় : চোখের ছানি সাধারণত বয়স্কদের বেশি হয়। ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়স্কদের জন্য এটা খুবই সাধারণ একটি অসুখ। তবে সব সময় বয়স্কদেরই হবে এমনটা ভাবা ভুল। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অপেক্ষাকৃত কম বয়সে ছানি হতে দেখা যায়। এমনকি ছানি হতে পারে ছোটদেরও। গর্ভবতী মায়ের কিছু জীবাণু সংক্রমণ হলে সন্তানের চোখে ছানি থাকতে পারে জন্ম থেকেই। গর্ভবতী মায়ের গর্ভধারণের তিন মাসের মধ্যে এক্স-রের মতো কোনো বিকিরণ রশ্মির সংস্পর্শে এলেও গর্ভের সন্তানের জন্মগত ছানির ঝুঁকি থাকে। ছোটদের বা বড়দের চোখে মারাত্মক আঘাত থেকে ছানি হতে পারে। ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন কিংবা বিকিরণ এলাকায় কাজ করেন, এমন ব্যক্তির ছানি হওয়ার ঝুঁকি থাকে যেকোনো বয়সে।

ছানি পড়ার কারণ : চোখে ছানি পড়ার প্রধান কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে লেন্সের উপাদান প্রোটিনের গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়া। এছাড়া আরও যেসব কারণে সমস্যা হতে পারে ১. দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগ যেমন ডায়াবেটিস, চোখের ইনফেকশন ইত্যাদি ২. বংশগত ৩. দীর্ঘদিন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন ৪. ধূমপান ও অ্যালকোহলে আসক্তি ৫. সূর্যের অতিরিক্ত তাপ কিংবা অতিবেগুনি রশ্মিতে কাজ করা ৬. চোখে আঘাত পাওয়া ৭. ভিটামিনের ঘাটতি।

চিকিৎসা : চোখে ছানি হলে তার একমাত্র চিকিৎসা হলো অপারেশন করে চোখের ছানি অপসারণ করা। অনেকেই মনে করেন ছানি বেশি বড় হলে তবে অপারেশন করা উচিত। এটা খুবই ভয়াবহ একটি ভুল ধারণা। কখন অস্ত্রোপচার করা নিরাপদ, সেটি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছানির অবস্থা দেখে বলে দেবেন। বেশি দেরি হয়ে গেলে ছানিজনিত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন : গ্লুকোমা ও লেন্স ডিজলোকেশন বা চোখের লেন্স নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যাওয়া, দৃষ্টি হারানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আজকাল অতি উন্নতমানের চোখের ছানির অপারেশন যেমন ফ্যাকো, SICS, ECCE  ইত্যাদি হয়ে থাকে। অনেক সময় অপারেশনের পরে চশমা পরার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধ : চোখের ছানি এড়ানোর জন্য নিয়মিত চোখের যতœ নেওয়া, দীর্ঘমেয়াদি অসুখ হলে তার চিকিৎসা করা, চোখের ডাক্তারের কাছ থেকে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার মতো নিয়মসমূহ মেনে চলা জরুরি। এছাড়া যেসব খাবারের উপাদান সমূহ চোখের জন্য উপকারী সেসব খাবার খাওয়ার দ্বারা ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। যেমন-রসুন (অ্যালিসিনন), বাদাম (ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড), পালংশাক (ফাইটো নিউট্রেয়ান্ট), গাজর (ভিটা ক্যারোটিন) পেঁপে (প্যাপিন), মধু, অশ্বগন্ধা, গ্রিন টি ইত্যাদি। চোখের ছানি হলে অন্ধ হয়ে যেতে হবে এমন ভয় না পেয়ে যত দ্রুত সম্ভব চক্ষুবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। তাতে রোগমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

 

©DeshRupantor

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+6 টি ভোট
1 উত্তর 73 বার দেখা হয়েছে
+6 টি ভোট
2 টি উত্তর 272 বার দেখা হয়েছে
31 জানুয়ারি 2021 "বিবিধ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন হুজায়ফা আহমদ (133,430 পয়েন্ট)
+7 টি ভোট
1 উত্তর 60 বার দেখা হয়েছে
+1 টি ভোট
1 উত্তর 6 বার দেখা হয়েছে
08 জানুয়ারি "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Subrata Saha (4,790 পয়েন্ট)
+1 টি ভোট
1 উত্তর 43 বার দেখা হয়েছে

8,161 টি প্রশ্ন

11,538 টি উত্তর

4,400 টি মন্তব্য

69,239 জন সদস্য

92 জন অনলাইনে রয়েছে
13 জন সদস্য এবং 79 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Md. Arafat Hasan

    7520 পয়েন্ট

  2. Tamanna Kawsar

    6560 পয়েন্ট

  3. Md Abdus Sami

    5740 পয়েন্ট

  4. Subrata Saha

    4790 পয়েন্ট

  5. অচেনা মানুষ

    3130 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ চোখ জীববিজ্ঞান পৃথিবী - শরীর কী মোবাইল এইচএসসি-আইসিটি রক্ত ক্ষতি চিকিৎসা আলো চুল মাথা প্রাণী মহাকাশ কারণ বৈজ্ঞানিক গরম পার্থক্য উপকারিতা পদার্থ প্রযুক্তি ডিম কেন স্বাস্থ্য খাওয়া বৃষ্টি শীতকাল কাজ রং সাপ #biology বিদ্যুৎ রাত সূর্য আগুন পদার্থবিজ্ঞান লাল সাদা খাবার ভয় দুধ মাছ হাত ব্যাথা শক্তি গাছ উপায় মশা গণিত ঠাণ্ডা বিজ্ঞান কি বৈশিষ্ট্য #জানতে মনোবিজ্ঞান আবিষ্কার ভাইরাস পা আম সমস্যা উদ্ভিদ গ্রহ কালো চাঁদ শব্দ রসায়ন #ask মেয়ে পাখি বাতাস স্বপ্ন কান্না বিস্তারিত নাক দাঁত হলুদ রঙ বাচ্চা মন ঔষধ মানসিক হরমোন বিড়াল চা চার্জ ফোবিয়া পাতা ব্যথা মস্তিষ্ক নখ তাপমাত্রা পাকা
...