কোটি কোটি মোবাইল নম্বর থাকার পরও একটি নম্বরের সাথে আরেকটি নম্বর না মেলার মূল কারণ হলো সিস্টেমেটিক কোডিং, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি এবং গাণিতিক পারমুটেশন (বিন্যাস)।
বিশ্বব্যাপী মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা জাতিসংঘের একটি সংস্থা ITU (International Telecommunication Union)-এর ‘E.164’ নামক নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দেশের একটি আলাদা কান্ট্রি কোড থাকে (যেমন বাংলাদেশের জন্য +৮৮০)। বিটিআরসি (BTRC) এই বৈশ্বিক নিয়ম মেনে দেশের ভেতর প্রতিটি অপারেটরকে নম্বর সিরিজ বরাদ্দ দেয়, যাতে অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক কোনো স্তরেই নম্বর ওভারল্যাপ বা একে অপরের সাথে মিলে না যায়।
প্রতিটি সিম কোম্পানির জন্য একটি নির্দিষ্ট কোড বা প্রিফিক্স বরাদ্দ থাকে। যেমন বাংলাদেশে:
* গ্রামীণফোন: ০১৭ বা ০১৩
* বাংলালিংক: ০১৯ বা ০১৪
* রবি: ০১৮
* এয়ারটেল: ০১৬
* টেলিটক: ০১৫
শুরুর এই ৩টি ডিজিট আলাদা হওয়ার কারণে, পরের অংশটি হুবহু এক হলেও পুরো নম্বরটি কখনো এক হয় না। উদাহরণস্বরূপ, একজনের নম্বর যদি ০১৭ ১২৩৪৫৬৭ হয়, তবে অন্য কোম্পানির গ্রাহকের নম্বর হবে ০১৯ ১২৩৪৫৬৭ বা ০১৮ ১২৩৪৫৬৭।
একটি ১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বরের শুরুর ৩ ডিজিট (যেমন: ০১৭) নির্দিষ্ট থাকার পর বাকি থাকে আরও ৮টি ডিজিট। গণিতের নিয়ম অনুযায়ী, এই ৮টি খালি ঘরে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত যেকোনো সংখ্যা বসিয়ে মোট ১০ কোটি (১০০,০০০,০০০) সম্পূর্ণ ইউনিক বা অনন্য নম্বর তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ, শুধুমাত্র জিপি-র ০১৭ দিয়েই ১০ কোটি আলাদা গ্রাহককে নম্বর দেওয়া সম্ভব। একইভাবে ০১৩ দিয়ে আরও ১০ কোটি নম্বর তৈরি করা যায়। দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে এই কোডিংয়ের ধারণক্ষমতা অনেক বেশি।
সিম কোম্পানিগুলোর একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকে। একটি নম্বর যখন কম্পিউটারে তৈরি বা রেজিস্টার্ড হয়, তখন সেটি লক হয়ে যায়। একই নম্বর অন্য কাউকে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে কোনো সিম যদি টানা ১৫ মাস বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে সরকারি নিয়ম মেনে সেই নম্বরটি ডাটাবেজ থেকে মুক্ত করে আবার নতুন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয় (যাকে নম্বর রিসাইক্লিং বলে)।
এভাবে, সুনির্দিষ্ট কোডিং বিন্যাস এবং গাণিতিক হিসাবের কারণেই কোটি কোটি নম্বরের মাঝেও প্রতিটি মোবাইল নম্বর সম্পূর্ণ আলাদা বা ইউনিক হয়।
সোর্সঃ
https://www.itu.int/rec/t-rec-e.164/en