স্নায়ুতন্ত্রে তথ্য মূলত বৈদ্যুতিক এবং রাসায়নিক-এই দুই সংকেতের সমন্বয়ে পরিবাহিত হয়। একটি নির্দিষ্ট নিউরনের ভেতরে তথ্য চলাচলের জন্য বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহৃত হয়। সাধারণ বিদ্যুত প্রবাহে ইলেকট্রন কাজ করলেও, স্নায়ুতন্ত্রে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় কোষের পর্দার ভেতর ও বাইরে সোডিয়াম (Na+) এবং পটাশিয়াম (K+) আয়নের দ্রুত আদান-প্রদানের ফলে।
যখন কোনো উদ্দীপনা নিউরনকে সক্রিয় করে, তখন সোডিয়াম আয়ন ভেতরে ঢুকে কোষের নেগেটিভ চার্জ কমিয়ে দেয়। এই চার্জের পার্থক্য যখন -৫৫ মিলিভোল্টে পৌঁছায়, তখন একটি তীব্র বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বা 'অ্যাকশন পোটেনশিয়াল' তৈরি হয়, যা অ্যাক্সনের মধ্য দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত হয়। পরিশেষে, এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে তথ্য পাঠাতে নিউরোট্রান্সমিটার নামক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়, যা স্নায়ুবিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখে।