বিট লবন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর শশার প্রাকৃতিক রঙে হালকা গোলাপি আভা দেখা দেয়, এই রঙ পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক কারণ কী? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

0 টি ভোট
276 বার দেখা হয়েছে
"জীববিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (520 পয়েন্ট)
শশার মধ্যে বিট লবন (black salt) দেওয়ার কিছুক্ষণ পর গোলাপি বা লালচে রঙের হওয়াটা একটি সাধারণ রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ফল। বিট লবনে থাকে আয়রন সালফাইড (iron sulfide) ও কিছু সালফার যৌগ, যা শশার প্রাকৃতিক অ্যাসিডের (যেমন অ্যাসেটিক অ্যাসিড) সাথে প্রতিক্রিয়া করে। এই প্রতিক্রিয়ায় সালফার ও আয়রনের যৌগগুলো রঙ পরিবর্তন করে, ফলে শশার সবুজ রঙ গোলাপি বা লালচে আভা ধারণ করে। তবে, এটি কোনো ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া নয়।

1 উত্তর

+1 টি ভোট
করেছেন (170 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর

বিট লবণ দেওয়ার পর শশার রঙে যে হালকা গোলাপি আভা দেখা যায়, তার প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো শশার প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ এবং বিট লবণের খনিজ উপাদান, বিশেষ করে আয়রনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া।

এই ব্যাপারটি কয়েকটি ধাপে ঘটে:

  • মূল কারণ: রাসায়নিক বিক্রিয়া

এই রঙ পরিবর্তনের পেছনের মূল চালিকাশক্তি হলো একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। শশার খোসা এবং এর ঠিক নিচের অংশে অ্যান্থোসায়ানিন (Anthocyanin) নামক এক ধরনের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ থাকে। এই অ্যান্থোসায়ানিন বিভিন্ন খনিজ এবং pH মানের পরিবর্তনে নিজের রঙ বদলাতে পারে।

  • পরিবর্তনের পেছনের বিজ্ঞান

 * বিট লবণের উপাদান: সাধারণ লবণের (সোডিয়াম ক্লোরাইড) চেয়ে বিট লবণের গঠন ভিন্ন। এতে সোডিয়াম ক্লোরাইড ছাড়াও আয়রন সালফাইড (Iron Sulfide) এবং অন্যান্য সালফার যৌগ সহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে। এই আয়রন সালফাইডই বিট লবণকে তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ এবং গোলাপি-ধূসর রঙ দেয়।

 * অভিস্রবণ (Osmosis) প্রক্রিয়া: যখন শশার ওপর বিট লবণ ছিটানো হয়, তখন অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার কারণে শশার কোষ থেকে পানি বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এই পানি শশার পৃষ্ঠে একটি তরল আস্তরণ তৈরি করে।

 * রাসায়নিক বিক্রিয়া: কোষ থেকে বেরিয়ে আসা পানিতে বিট লবণের আয়রন সালফাইড এবং অন্যান্য খনিজ দ্রবীভূত হয়। এই দ্রবীভূত আয়রন তখন শশার কোষে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামক রঞ্জক পদার্থের সংস্পর্শে আসে। আয়রনের আয়নের সাথে অ্যান্থোসায়ানিনের বিক্রিয়ার ফলেই একটি নতুন যৌগ তৈরি হয়, যার রঙ হালকা গোলাপি।

## পুরো প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে

  1.  লবণ প্রয়োগ: শশার ওপর বিট লবণ দেওয়া হয়।
  2.  পানি নিঃসরণ: অভিস্রবণের কারণে শশা থেকে পানি বের হয়।
  3.  খনিজ দ্রবীভূত: সেই পানিতে বিট লবণের আয়রন ও অন্যান্য খনিজ মিশে যায়।
  4.  রঙ পরিবর্তন: দ্রবীভূত আয়রন শশার অ্যান্থোসায়ানিনের সাথে বিক্রিয়া করে হালকা গোলাপি আভা তৈরি করে।

সুতরাং, এই পরিবর্তনটি শশার কোনো পচন বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক এবং তাৎক্ষণিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 642 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 431 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
1 উত্তর 362 বার দেখা হয়েছে

10,920 টি প্রশ্ন

18,621 টি উত্তর

4,747 টি মন্তব্য

874,576 জন সদস্য

26 জন অনলাইনে রয়েছে
2 জন সদস্য এবং 24 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Mynul

    340 পয়েন্ট

  2. Aviator Game

    180 পয়েন্ট

  3. bobbyanderson0

    140 পয়েন্ট

  4. mark1654

    140 পয়েন্ট

  5. Fayahal Bin Kadry

    120 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো #science মোবাইল ক্ষতি চুল চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য স্বাস্থ্য মাথা গণিত মহাকাশ প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান গরম খাওয়া #জানতে শীতকাল চাঁদ ডিম বৃষ্টি কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা আগুন লাল মনোবিজ্ঞান গাছ খাবার মস্তিষ্ক সাদা শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো পা উদ্ভিদ মন কি বিস্তারিত রঙ পাখি গ্যাস সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত ভাইরাস বিড়াল আকাশ গতি কান্না আম
...