নদীর পানি সমুদ্রে প্রবেশ করে কিন্তু নদীর পানি লবণাক্ত না হলেও সমুদ্রের পানি লবণাক্ত হয় কি করে? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

0 টি ভোট
1,145 বার দেখা হয়েছে
"রসায়ন" বিভাগে করেছেন (1,100 পয়েন্ট)

2 উত্তর

+2 টি ভোট
করেছেন (860 পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
ব্যাখ্যা ১ঃ নদীর পানি সাগরে গিয়ে পড়ে। কিন্তু এ দুয়ের পার্থক্য হলো সাগরের পানি জমা হচ্ছে চার থেকে পাঁচ শ কোটি বছর ধরে কিন্তু সে তুলনায় নদীর পানি হয়তো মাত্র কয়েক লাখ বছর ধরে বয়ে চলেছে। আরেকটি পার্থক্য হলো নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় মাটির লবণ ও খনিজ পদার্থ ধুয়ে সাগরে নিয়ে যায় নদীর পানিতে এসব পদার্থ জমে থাকার সুযোগ কম। সাগরের পানি বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে ওঠে ও বৃষ্টি হয়ে নেমে আসে। এভাবে সাগরে লবণের অনুপাত বাড়তে থাকে। নদীতে সে রকম হতে পারে না। এখানে মনে রাখা দরকার, জোয়ারের সময় নদীর মোহনায় সাগরের পানি চলে আসে। এ কারণে খুলনার ভৈরব রূপসা প্রভৃতি নদীর পানি কিছুটা লবণাক্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে এ জন্য আমাদের দেশের কিছু নদীর পানি মোহনার পরও উজানে বেশ কিছুদূর পর্যন্ত লবণাক্ত হয়ে পড়ছে।

ব্যাখ্যা ২ঃ সমুদ্রের পানি লবণাক্ত পানি লবনাক্ত কেন সমপ্রচলিত ভুল ধারণা হলো বৃষ্টির পানিতে বড় বড় লবণের পাহাড় গলে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে বলেই সমুদ্রের পানি লবণাক্ত। সত্যিটা আরেকটু জটিল। তবে এটা ঠিক যে সমুদ্রের পানির লবণের উৎস কিন্তু স্থলভূমিই। বৃষ্টির পানিতে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশে থাকে। যা এটাকে এসিডিক করে তোলে। এ পানি যখন ভূমিকে ক্ষয় করে গড়াতে থাকে তখন এটি একটি আয়ন নির্গত করে বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত পরমাণু।। নদী ও খাল-বিল সেই আয়ন দ্রবীভূত করে নিয়ে যায় সমুদ্রে। এর মধ্যে কিছু আয়ন শুষে নেয় পানিতে থাকা জলজ উদ্ভিদ। তবে সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন থেকেই যায়। সেগুলোই সমুদ্রে গিয়ে জোট বাঁধতে থাকে। আর সোডিয়াম ক্লোরাইডই হলো আমাদের প্রতিদিনকার খাওয়ার লবণ। সমুদ্রে কী পরিমাণ লবণ আছে জানো? যদি সমুদ্রের সব পানি শুকিয়ে ফেলা হয় তবে যে পরিমাণ লবণ তৈরি হবে তা দিয়ে গোটা জোট বাঁধতে থাকে। আর সোডিয়াম ক্লোরাইডই হলো আমাদের প্রতিদিনকার খাওয়ার লবণ। সমুদ্রে কী পরিমাণ লবণ আছে জানো? যদি সমুদ্রের সব পানি শুকিয়ে ফেলা হয়, তবে যে পরিমাণ লবণ তৈরি হবে তা দিয়ে গোটা পৃথিবীর ওপর ৫০০ ফুট উঁচু একটা স্তর বানানো সম্ভব।

 ব্যাখ্যা ৩ঃ সমুদ্রের পানি লবণাক্ত কেন? পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। খাল-বিল পুকুর হ্রদ- সব জায়গায়ই থাকে পানি। কিন্তু এসব জায়গার পানি সাধারণত লবণাক্ত হয় না। সমুদ্রের পানি সবসময়ই লবণাক্ত। কেন হয় সমুদ্রের পানির ভেতরে লবণ আসে মূলত ডাঙা বা স্থলের পাথর থেকে। বৃষ্টিপাতের সময় বৃষ্টির যে ফোঁটাগুলো ডাঙায় পড়ে সেগুলোতে আশপাশের বাতাস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড মিশে যায়। কার্বন ডাইঅক্সাইড আর পানি মিলে তৈরি করে কার্বনিক অ্যাসিড যার ফলে বৃষ্টির পানি একটু অ্যাসিডিক হয়ে যায়। এই বৃষ্টির পানি যখন পাথরের গায়ে পড়ে তখন এর ভেতরের অ্যাসিড পাথরের গা বেয়ে নামে এবং আয়ন তৈরি করে। এই আয়নগুলো আবার গড়িয়ে পড়ে নদী বা হ্রদের জলে। সেখান থেকে গিয়ে মেশে সমুদ্রের পানিতে।এভাবে বিভিন্ন রকম আয়ন সমুদ্রের পানিতে থাকে। এগুলোর মধ্যে কিছু সামুদ্রিক জীব খাদ্য উৎপাদন ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করে এবং সমুদ্রের পানি থেকে সরিয়ে ফেলে। বাকিগুলো সমুদ্রের পানিতেই মিশে থাকে। দীর্ঘ সময় এভাবে সমুদ্রের পানিতে থেকে আয়নগুলোর পরিমাণ বাড়তে থাকে। এসব আয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সোডিয়াম ও ক্লোরিন। সমুদ্রের পানিতে এই দুটোর পরিমাণ ৯০ শতাংশ। সোডিয়াম ও ক্লোরিন লবণাক্ত। মূলত এই দুটো মৌল একত্রিত হয়ে তৈরি করে সোডিয়াম ক্লোরাইড যাকে আমরা বলি লবণ। সমুদ্রের পানিতে সোডিয়াম ও ক্লোরিন আয়ন মিলে লবণ তৈরি করে। এই দুটোর পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণও অনেক বেশি থাকে।

 

আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

ধন্যবাদ।
0 টি ভোট
করেছেন (300 পয়েন্ট)
সমুদ্রের পানি কেন লবণাক্ত এবং নদীর পানি কেন মিঠা, তা বোঝার জন্য আমাদেরকে পৃথিবীর প্রাচীন জলচক্রের দিকে তাকাতে হবে। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলি আমাদেরকে সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় যখন পৃথিবীর আদি জলবায়ু গঠিত হচ্ছিল।

 

প্রাচীনকালে, যখন পৃথিবীর পৃষ্ঠে প্রথমবারের মতো পানি জমা হতে শুরু করে, তখন বৃষ্টির পানি পাহাড়-পর্বত ধুয়ে মাটির খনিজ পদার্থ ও লবণ সমুদ্রের দিকে নিয়ে আসতো। এই লবণ ও খনিজ পদার্থ সমুদ্রের পানিতে জমা হতে থাকে, কারণ সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত হলেও লবণ থেকে যায়। ফলে লক্ষ লক্ষ বছরে সমুদ্রের পানি লবণাক্ত হয়ে ওঠে।

 

অন্যদিকে, নদীর পানি পাহাড়, ঝর্ণা, এবং ঝরনা থেকে আসে এবং এটি প্রবাহিত হওয়ার সময় মাটির লবণ ও খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করলেও সেই পানি অবশেষে সমুদ্রে মিশে যায়। নদীর পানি ক্রমাগতভাবে প্রবাহিত হয় এবং তার সাথে নতুন বৃষ্টির পানি যোগ হয়, ফলে এটি মিঠা থাকে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+7 টি ভোট
1 উত্তর 3,563 বার দেখা হয়েছে
+1 টি ভোট
1 উত্তর 430 বার দেখা হয়েছে
+2 টি ভোট
1 উত্তর 2,524 বার দেখা হয়েছে
+12 টি ভোট
1 উত্তর 454 বার দেখা হয়েছে
05 অগাস্ট 2020 "পরিবেশ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন বিজ্ঞানের পোকা ৩ (25,800 পয়েন্ট)
+3 টি ভোট
1 উত্তর 430 বার দেখা হয়েছে
20 এপ্রিল 2021 "পরিবেশ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Ubaeid (28,340 পয়েন্ট)

10,932 টি প্রশ্ন

18,639 টি উত্তর

4,750 টি মন্তব্য

881,667 জন সদস্য

154 জন অনলাইনে রয়েছে
0 জন সদস্য এবং 154 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. Taz_riyan

    300 পয়েন্ট

  2. kgamevn1

    100 পয়েন্ট

  3. go88mediacom

    100 পয়েন্ট

  4. 1hitclubnetim

    100 পয়েন্ট

  5. vin88army

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম পদার্থ - জীববিজ্ঞান চোখ পৃথিবী এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান রোগ রাসায়নিক #ask শরীর রক্ত আলো #science মোবাইল ক্ষতি চুল চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান কী প্রযুক্তি সূর্য মহাকাশ স্বাস্থ্য মাথা গণিত প্রাণী বৈজ্ঞানিক #biology পার্থক্য এইচএসসি-আইসিটি বিজ্ঞান গরম খাওয়া #জানতে শীতকাল ডিম চাঁদ বৃষ্টি কেন কারণ কাজ বিদ্যুৎ রং সাপ রাত শক্তি উপকারিতা আগুন লাল মনোবিজ্ঞান গাছ খাবার সাদা মস্তিষ্ক শব্দ আবিষ্কার দুধ মাছ উপায় হাত মশা ঠাণ্ডা ব্যাথা স্বপ্ন ভয় বাতাস তাপমাত্রা গ্রহ রসায়ন কালো পা উদ্ভিদ মন কি বিস্তারিত পাখি গ্যাস রঙ সমস্যা বাচ্চা মেয়ে মৃত্যু বাংলাদেশ বৈশিষ্ট্য ব্যথা হলুদ ভাইরাস আকাশ সময় চার্জ অক্সিজেন দাঁত বিড়াল গতি কান্না আম
...