ভূমিকম্পের আগে ও সময়ে পাখিরা যেভাবে অস্বাভাবিক আচরণ করে, তার সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:
নিম্ন-কম্পাঙ্কের (Infrasound) শব্দ
ভূমিকম্পের আগে ও সময়ে পৃথিবী থেকে এমন কম্পন ও শব্দ তৈরি হয়, যার কম্পাঙ্ক মানুষের শোনার সীমার নিচে (২০ Hz-এর কম)।
অনেক পাখি এই ধরনের নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দ অনুভব করতে পারে। তাই তারা মাটির কম্পন না পেলেও বাতাসের মাধ্যমে আসা এই সংকেত বুঝতে পারে।
বাতাসের কম্পন ও চাপের পরিবর্তন
ভূমিকম্পের ফলে বাতাসে সূক্ষ্ম চাপের পরিবর্তন বা কম্পন সৃষ্টি হতে পারে।
পাখিদের শ্রবণশক্তি ও ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ (inner ear) অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তারা এসব পরিবর্তন টের পেতে পারে।
অন্যান্য প্রাণীর আচরণ দেখে
ভূমিকম্পের আগে অনেক প্রাণী—যেমন কুকুর, বিড়াল, গরু ইত্যাদিও অস্বাভাবিক আচরণ করে।
পাখিরা এসব আচরণ দেখে আতঙ্কিত হয়ে একসঙ্গে উড়ে যেতে পারে।
P-wave আগে পৌঁছায়
ভূমিকম্পে প্রথমে আসে Primary wave (P-wave), যা অপেক্ষাকৃত দুর্বল কিন্তু দ্রুতগতির।
এরপর আসে Secondary wave (S-wave) এবং Surface wave, যেগুলো বেশি ক্ষতিকর।
কিছু প্রাণী, বিশেষ করে পাখি, P-wave বা তার ফলে সৃষ্ট সূক্ষ্ম কম্পন মানুষের আগেই অনুভব করতে পারে। তাই তারা আগে থেকেই উড়ে ছোটাছুটি শুরু করে।