স্যাকারিন কী? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

0 টি ভোট
54 বার দেখা হয়েছে
"তত্ত্ব ও গবেষণা" বিভাগে করেছেন (132,100 পয়েন্ট)

2 উত্তর

+1 টি ভোট
করেছেন (132,100 পয়েন্ট)

স্যাকারিন- এই স্যাকারিন শব্দটি শুনেনি, এমন মানুষ খুব কমই আছে। রাসায়নিক গঠনানুসারে স্যাকারিনের নাম-
"anhydroorthosulphaminebenzoic acid". কিন্তু এমন নাম উচ্চারণ করা আর হাতুড়ি দিয়ে  দাঁত ভাংগা একই কথা।  তাই এর আবিষ্কারক এর নামকরণ করেন Saccharin যা এসেছে Saccharine (চিনির মতো) থেকে। Saccharine এসেছে ল্যাটিন শব্দ Saccharon থেকে যার অর্থ হলো চিনি। কিন্তু Saccharon আবার এসেছে সংস্কৃত শব্দ শর্করা থেকে। ইন্টারেস্টিং তাইনা?!
 

তবে এর থেকেও বেশি মজার কাহিনী হলো এর আবিষ্কার এর কাহিনী।
 

আবিষ্কারঃ
১৮৭৮-৭৯ সালের দিলে জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির এক ছোট- খাটো গবেষণাগারে  প্রথম উদ্ভাবন করা হয় কৃত্রিম এ মিষ্টিকারক পদার্থটির। ইরা রেমসেন নামে রসায়নের এক প্রফেসরের তত্ত্বাবধানেই চলতো গবেষণাগারের কাজ। তাঁরই গবেষণাগারে  যোগ দেন  ফাহ্লবার্গ।
তো ফাহ্লবার্গ  নিজের গবেষণায় এতোটাই মগ্ন থাকতেন যে খাওয়ার কথাও ভুলে যেতেন। তো আবিষ্কারের দিন,  তিনি গবেষণা শেষে হাত না ধুয়েই খেতে বসেছিলেন। আর অত্যন্ত মিষ্টি একটি স্বাদ পেলেন, ফাহ্লবার্গ  কিন্তু মিষ্টি একদমই পছন্দ করতেন না। তো তার খাবারে  মিষ্টি ব্যবহার করায় তিনি বেজায় চটে গেলেন, রাগারাগি শুরু করলেন। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি তাঁর ভুল বুঝতে  পারলেন যে মিষ্টি টা আসলে খাবারে নয়, তাঁর হাত না ধুয়ে খাওয়ার ফলে হয়েছে। কিন্তু কি এমন যৌগের কারণে  এতো মিষ্টতা হলো?
 

স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কাজ ছিলো তার। তাই ঠিক কোন রাসায়নিক পদার্থটি হাতে লাগার দরুন এ মিষ্টতার উদ্ভব হয়েছে, তা তিনি ঠিক নিশ্চিত ছিলেন না। তাই তিনি আবার  গবেষণাগারে গিয়ে আবার তার শেষ পরীক্ষার পদার্থ  চেখে দেখলেন।

সালফোবেঞ্জয়িক এসিড, ফসফরাস ক্লোরাইড আর অ্যামোনিয়ার এক মিশ্রণ থেকেই তিনি পেয়েছিলেন সেই কড়া মিষ্টি স্বাদ। সেইদিনই তিনি এই মিশ্রণগুলো জ্বালিয়ে তৈরি করেছিলেন বেঞ্জয়িক সালফাইনাইড।


স্যাকারিনের গবেষণাপত্রঃ
এরপর আর দেরি করলেন না ফাহ্লবার্গ।
তার গবেষণা সুপারভাইজার অধ্যাপক রেমসেনের সাথে একটি সায়েন্টিফিক পেপার লিখলেন। ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত সেই পেপারে তাদের দুজনকেই স্যাকারিনের উদ্ভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিলো। ১৮৮৬ সালে করা স্যাকারিনের পেটেন্টে নিজেকেই এর একমাত্র আবিষ্কারক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আর এটা নিয়েই ফাহ্লবার্গের সাথে রেমসেনের গন্ডগোল শুরু হয়। ফাহ্লবার্গের কাজটি মূলত রেমসেনের গবেষণাগারেই হওয়ায় রেমসেন চেয়েছিলেন এর সহ-উদ্ভাবক হিসেবে অন্তত তার নামটি থাকুক। অন্যদিকে ফাহ্লবার্গের বক্তব্য ছিলো যে, এর আগেও তিনি সালফোবেঞ্জয়িক এসিড নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছেন। তাই উদ্ভাবনের কৃতিত্ব মূলত তারই।
 

স্যাকারিনের ব্যবহারঃ চিনির চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বেশি মিষ্টি স্যাকারিন তৈরী হয় আলকাতরা থেকে প্রাপ্ত উলুইন নামক পদার্থ থেকে। কার্বোহাইড্রেটবিহীন খাদ্যদ্রব্য ও কোমল পানীয়ের মিষ্টিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয় স্যাকারিন।  এছাড়া বেকারিতে প্রস্তুত খাদ্যসামগ্রী, ক্যান্ডি, সালাদ ইত্যাদিতে  বর্তমানে স্যাকারিন ব্যবহার করা হয়৷

ক্রেডিট : মিথিলা ফারজানা মেলোডি | ক্যাম্পাস এম্বাসেডর, সায়েন্স বী

0 টি ভোট
পূর্বে করেছেন (570 পয়েন্ট)
স্যাকারিন হলো একধরণের রাসায়নিক যৌগ।যা চিনি থেকে ৩০০-৫০০ গুণ মিষ্টি।এর রাসায়নিক নাম " বেনজো সালফিমাইড।"এর মধ্যে কোন খাদ্যশক্তি নেই। এটা হলো কৃত্রিম মিষ্টি যা নানারকম পানীয়,চকোলেট ইত্যাদিতে মিশিয়ে মিষ্টি করা হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+1 টি ভোট
1 উত্তর 2 বার দেখা হয়েছে
+1 টি ভোট
1 উত্তর 14 বার দেখা হয়েছে
03 অক্টোবর "তত্ত্ব ও গবেষণা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন NAYEM MOLLAH (1,470 পয়েন্ট)
+10 টি ভোট
1 উত্তর 83 বার দেখা হয়েছে
+2 টি ভোট
1 উত্তর 115 বার দেখা হয়েছে
18 এপ্রিল "পদার্থবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন PabonAhsanIvan (2,480 পয়েন্ট)
+1 টি ভোট
1 উত্তর 101 বার দেখা হয়েছে
15 জুলাই "গণিত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন M.Wasef Hoque (230 পয়েন্ট)

6,885 টি প্রশ্ন

8,368 টি উত্তর

4,334 টি মন্তব্য

57,027 জন সদস্য

55 জন অনলাইনে রয়েছে
4 জন সদস্য এবং 51 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. মো: নাছরুল্লাহ

    3460 পয়েন্ট

  2. Anupom

    2180 পয়েন্ট

  3. Kanija Afroz

    1520 পয়েন্ট

  4. Rabbi999

    1340 পয়েন্ট

  5. Fahmida Nabi

    1210 পয়েন্ট

সাইন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান ঘুম চোখ জীববিজ্ঞান পৃথিবী এইচএসসি-আইসিটি - মোবাইল শরীর ক্ষতি রক্ত চুল আলো মাথা প্রাণী বৈজ্ঞানিক উপকারিতা কারণ বৃষ্টি শীতকাল চিকিৎসা রোগ খাওয়া ডিম পার্থক্য কাজ #biology বিদ্যুৎ প্রযুক্তি সাপ গরম কী খাবার ভয় রাত রং কেন মহাকাশ আগুন হাত সাদা শক্তি মশা উপায় ব্যাথা গাছ সূর্য লাল পা মনোবিজ্ঞান বৈশিষ্ট্য #জানতে গণিত রসায়ন #ask দুধ উদ্ভিদ গ্রহ দাঁত পদার্থবিজ্ঞান মেয়ে রঙ বাচ্চা আম স্বাস্থ্য মাছ বাতাস চাঁদ ঠাণ্ডা ফোবিয়া স্বপ্ন বিড়াল শব্দ সমস্যা চার্জ বিস্তারিত পাখি নাক নখ পাতা হরমোন কালো বৃদ্ধি মানসিক আবিষ্কার কুকুর হলুদ ত্বক আকাশ কান্না ওজন মস্তিষ্ক মুখ বেশি গরু রাগ অতিরিক্ত
...