অতিরিক্ত পানি পান করলে কী হয়? - ScienceBee প্রশ্নোত্তর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নোত্তর দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! প্রশ্ন-উত্তর দিয়ে জিতে নিন পুরস্কার, বিস্তারিত এখানে দেখুন।

+3 টি ভোট
504 বার দেখা হয়েছে
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন (26,210 পয়েন্ট)

6 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (26,210 পয়েন্ট)
পানি জীবনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও কমে যায়।বিশেষজ্ঞরা শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখতে, সুস্থ থাকতে পরিমিত পানি পানের পরামর্শ দেন। কিন্তু অনেকেই মনে করেন যত বেশি পানি পান করবেন ততই সুস্থ থাকবেন। সেক্ষেত্রে তারা দিনের চাহিদার চেয়ে বেশি পানি পান করেন। এতে শরীরে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।

 
আপনি বেশি পানি পান করছেন কিনা বা শরীরে ওভারহাইড্রেশন হচ্ছে কিনা তা কয়েকটি উপসর্গ দেখলে বুঝা যায়। যেমন-

 ১. আপনি যেখানেই যান না কেন আপনার হাতে একটা পানির বোতল থাকে। যখনই বোতলটা খালি হয়ে যায় তা পূর্ণ করার চেষ্টা থাকে আপনার। আপনি হয়তো মনে করেন , সবসময় পানি খেলে আপনার শরীর ভাল থাকবে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা আপনার শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট পদ্ধতি নষ্ট করে নানাবিধ সমস্যা তৈরি করে।

 ২. কোথাও হয়তো আপনি পড়েছেন দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করা উচিত। কিন্তু আপনার হয়তো জানা নেই আপনি যেসব খাবার খান তাতেও পানি থাকে। তখন আপনার যা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি পানি পান করা হয় আপনার। এতে শরীরে ওভারহাইড্রেশন তৈরি হয়।

৩. কেউ কেউ মনে করেন বেশি বেশি অথবা পরিষ্কার মূত্র ত্যাগ করলে শরীরে সুস্থতা বজায় থাকবে। এ কারণে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করেন।

৪. যদি আধঘণ্টা পর পর আপনার মূত্রত্যাগের প্রয়োজন হয় এবং অতিরিক্ত পানি পানের জন্য রাতেও বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার ওভারডিহাইড্রেশন হয়েছে।

৫. অতিরিক্ত এবং কম পানি পান-দুইটির কারণেই মাথা ব্যথা হতে পারে। বেশি পানি পান করলে শরীরের সেলগুলা বড় হয়ে যায়। মস্তিষ্কের সেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খুলিতে ধাক্কা দেয়। এ কারণে মাথা ব্যথা দেখা দেয।

৬. অতিরিক্ত পানি পানে কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন বমি বমি ভাব হয়।

৭. অতিরিক্ত পানি পান করলে যেহেতু কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না তখন হাত, পা, ঠোঁট ফুলে যায়। আবার এতে ওজনও বাড়ে।

৮. মাংসপেশী ক্রাম্প বা দুর্বল হয়ে পড়ে অতিরিক্ত পানি পানের কারণে।ওভারডিহাইড্রেশন হলে শরীর ক্লান্তও লাগে।

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা শরীর সুস্থ রাখতে দৈনিক ৮ গ্লাস বা ২ লিটার পানি পানের পরামর্শ দেন।

সূত্র : স্টাইলক্রেজ
0 টি ভোট
করেছেন (140,400 পয়েন্ট)

অতিরিক্ত পানি পান করলে যেসব বিপদ হতে পারে:

 

নিয়মিত পরিমাণমত পানি পান করলে অনেক রোগ সেরে যায়। সাধারণ কিছু অসুখের কথা শুনলে সবাই বেশি পানি পানের পরামর্শই দেন। ডিহাইড্রেশনের কারণেও নানা ব্যাধির শিকার হই আমরা। তবে অতিরিক্ত পানি পান করলে যেসব বিপদ হতে পারে তা জেনে নিন।

বেশি পানি পান করলেই খেলেই রোগমুক্ত থাকা যায়-চিকিৎসকদের মতে, একেবারেই তা নয়। বরং উল্টোটাও হয়ে থাকে। অতিরিক্ত পানি পান বরং স্বাস্থ্যের পক্ষে কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

বেশি পানি পান করলেই খেলেই রোগমুক্ত থাকা যায়-চিকিৎসকদের মতে, একেবারেই তা নয়। বরং উল্টোটাও হয়ে থাকে। অতিরিক্ত পানি পান বরং স্বাস্থ্যের পক্ষে কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

পানি পানে পেট ঠান্ডা থাকে। পানি পানে ত্বক ভালো থাকে, পেশীশক্তি বাড়ে। পানি পানে কিডনি, লিভার, ফুসফুস শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকে। মোটের উপর পানি পান অভ্যাস শুধুই গুণে ভরা। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন অতিরিক্ত পানি পানে সব সময় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

পানি পানে পেট ঠান্ডা থাকে। পানি পানে ত্বক ভালো থাকে, পেশীশক্তি বাড়ে। পানি পানে কিডনি, লিভার, ফুসফুস শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকে। মোটের উপর পানি পান অভ্যাস শুধুই গুণে ভরা। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন অতিরিক্ত পানি পানে সব সময় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

ভারতীয় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অমিত ঘোষ বলছেন, জল খাওয়া অবশ্যই ভালো। কিন্তু প্রত্যেকের ওজন আর কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে শরীরে জলের চাহিদা। কে কতটুকু জল খাবেন, তা নির্ভর করবে ওই জলের চাহিদার উপরেই। বেশ কিছু অসুখে জলের পরিমাণ কমাতে হয়। বেশি জল সে ক্ষেত্রে শরীরেই জমে যায়।

ভারতীয় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অমিত ঘোষ বলছেন, জল খাওয়া অবশ্যই ভালো। কিন্তু প্রত্যেকের ওজন আর কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে শরীরে জলের চাহিদা। কে কতটুকু জল খাবেন, তা নির্ভর করবে ওই জলের চাহিদার উপরেই। বেশ কিছু অসুখে জলের পরিমাণ কমাতে হয়। বেশি জল সে ক্ষেত্রে শরীরেই জমে যায়।

এ ছাড়া অতিরিক্ত পানি পানে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমতে থাকে। রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে ক্লান্তি ভাব আসে। সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, বমি ভাব, মাথার যন্ত্রণা হতে থাকে। অতিরিক্ত প্রস্রাবের ফলেই আরও কমতে থাকে সোডিয়ামের পরিমাণ। বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি করে দেখা যায় বলেই মত চিকিৎসকদের।

এ ছাড়া অতিরিক্ত পানি পানে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমতে থাকে। রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে ক্লান্তি ভাব আসে। সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, বমি ভাব, মাথার যন্ত্রণা হতে থাকে। অতিরিক্ত প্রস্রাবের ফলেই আরও কমতে থাকে সোডিয়ামের পরিমাণ। বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি করে দেখা যায় বলেই মত চিকিৎসকদের।

‘আমেরিকান হেলথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষণা অনুসারে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল খেলে ওভারহাইড্রেশন হতে পারে। এর ফলে শরীরের কোষগুলো ফুলে যেতে থাকে। মস্তিষ্কের কোষও ফুলতে থাকে। এর থেকে ব্রেন স্ট্রোক পর্যন্ত হওয়ারআশঙ্কা থাকে।

‘আমেরিকান হেলথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষণা অনুসারে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল খেলে ওভারহাইড্রেশন হতে পারে। এর ফলে শরীরের কোষগুলো ফুলে যেতে থাকে। মস্তিষ্কের কোষও ফুলতে থাকে। এর থেকে ব্রেন স্ট্রোক পর্যন্ত হওয়ারআশঙ্কা থাকে।

তা থেকে পিঠে ব্যথা, বুকে ব্যথা, লিভারে সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল খেলে হার্টের উপরেও চাপ পড়তে থাকে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা পর্যন্ত থাকে।

তা থেকে পিঠে ব্যথা, বুকে ব্যথা, লিভারে সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল খেলে হার্টের উপরেও চাপ পড়তে থাকে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা পর্যন্ত থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, তেমনটা মোটেও নয়, তবে পরিমাণ বুঝে পান করতে হবে পানি। দিনে অন্তত তিন লিটার পানি পান সোজাসাপ্টা হিসাব সব সময় কাজ করে না। প্রত্যেকের শরীরের গঠন আলাদা। চাহিদাও আলাদা। তাই শরীরের প্রয়োজন বুঝেই পানি পান করা উচিত।

চিকিৎসকরা বলছেন, তেমনটা মোটেও নয়, তবে পরিমাণ বুঝে পান করতে হবে পানি। দিনে অন্তত তিন লিটার পানি পান সোজাসাপ্টা হিসাব সব সময় কাজ করে না। প্রত্যেকের শরীরের গঠন আলাদা। চাহিদাও আলাদা। তাই শরীরের প্রয়োজন বুঝেই পানি পান করা উচিত।

ক্রেডিট: জাগো নিউজ

0 টি ভোট
করেছেন (4,980 পয়েন্ট)
যখন আপনি খুব বেশি জল পান করেন তখন কী ঘটে?
আপনি যখন খুব বেশি জল পান করেন তখন আপনি পানির বিষ, নেশা বা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারেন। এটি তখন ঘটে যখন কোষগুলিতে খুব বেশি জল থাকে ,মস্তিষ্কের কোষগুলি ফুলে যায় - মস্তিষ্কের কোষগুলি ফুলে উঠলে তারা মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। আপনি বিভ্রান্তি, তন্দ্রা এবং মাথা ব্যথার মতো জিনিসগুলির অভিজ্ঞতা শুরু করতে পারেন। যদি এই চাপ বাড়তে থাকে তবে এটি হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ) এবং ব্র্যাডিকার্ডিয়া (লো হার্ট রেট) এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

ওভারহাইড্রেশন দ্বারা সোডিয়াম সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত ইলেক্ট্রোলাইট যা হাইপোনাট্রেমিয়া নামক একটি অবস্থার দিকে পরিচালিত করে। সোডিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা কোষের মধ্যে এবং বাইরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। শরীরে প্রচুর পরিমাণে জলের কারণে যখন এর মাত্রা হ্রাস পায় তখন তরলগুলি কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তারপরে কোষগুলি ফুলে যায়, আপনাকে খিঁচুনি হওয়ার, কোমায় যাওয়ার বা এমনকি মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে।

আপনি খুব বেশি জল পান করছেন এমন লক্ষণগুলি কী কী?
আপনার প্রস্রাবের রঙ। আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করছেন কিনা তা নির্ধারণের অন্যতম সেরা উপায় হ'ল আপনার প্রস্রাবের রঙ পর্যবেক্ষণ করা। পিগমেন্ট ইউরোক্রোমের সংমিশ্রণ এবং আপনার দেহের জলের স্তরের কারণে এটি সাধারণত ফ্যাকাশে হলুদ থেকে চা রঙের হয়। যদি প্রস্রাব প্রায়শই পরিষ্কার হয় তবে এটি একটি নিশ্চিত লক্ষণ যে আপনি অল্প সময়ে খুব বেশি জল পান করছেন।

অনেক বেশি বাথরুমের ট্রিপ। আপনি যদি স্বাভাবিকের চেয়ে নিজেকে আরও স্বস্তি দিচ্ছেন তবে অন্য একটি চিহ্ন। গড়ে, আপনার প্রতিদিন ছয় থেকে আট বার প্রস্রাব করা উচিত। জল পান করার উচ্চ প্রাপ্তি বা যারা নিয়মিত ক্যাফিন বা অ্যালকোহল পান করেন তাদের পক্ষে 10 বারের বেশি যাওয়া স্বাভাবিক।

তৃষ্ণার্ত না থাকলেও জল পান করা অতিরিক্ত জল খাওয়া এড়ানোর তৃতীয় উপায় হ'ল কখন আপনার দেহের এটি প্রয়োজন হয় সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া। আপনার যখন কিছু জল খাওয়ার দরকার হয় তখন আপনাকে দেহটি শরীর ডিহাইড্রেশনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তৃষ্ণা হ'ল ডিহাইড্রেশনে শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং এটি আপনার গাইডের ইঙ্গিত হওয়া উচিত।

বমি বমি ভাব বা বমি বমি ভাব। ওভারহাইড্রেশনের লক্ষণগুলি ডিহাইড্রেশনের মতো দেখাতে পারে। আপনার শরীরে খুব বেশি জল থাকলে কিডনি অতিরিক্ত তরল সরিয়ে ফেলতে পারে না। এটি শরীরে সংগ্রহ শুরু করে, যা বমি বমি ভাব, বমি বমিভাব এবং ডায়রিয়ার দিকে পরিচালিত করে।

সারাদিন মাথা ঘোরাচ্ছে মাথা ব্যথা। মাথাব্যথা হাইড্রেশন এবং ডিহাইড্রেশন উভয়ই বোঝাতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত জল দেহের কারণে শরীরের লবণের মাত্রা নীচে যায় এবং কোষগুলি ফুলে যায়। এই ফোলাগুলি তাদের আকারে বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্কে থাকা লোকেরা খুলির বিপরীতে চাপ দেয়। এই চাপের ফলে মাথা গোঁজার মাথা ব্যথা হয় এবং মস্তিষ্কের দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

হাত, পা এবং ঠোঁটের বিবর্ণতা। যখন আপনি অতিরিক্ত পানিশূন্য হয়ে যাবেন তখন আপনি আপনার পা, হাত এবং ঠোঁটের কিছু ফোলা বা বিবর্ণতা দেখতে পাবেন। কোষগুলি ফুলে উঠলে ত্বকও ফুলে উঠবে।

দুর্বল পেশীগুলি যা সহজেই ক্র্যাম্প করে। যখন খুব বেশি জল পান করার কারণে যখন ইলেক্ট্রোলাইটের স্তর হ্রাস পায় তখন আপনার দেহের ভারসাম্য হ্রাস পায়। শরীরে কম ইলেক্ট্রোলাইটের স্তরগুলি পেশীগুলির স্প্যাম এবং ক্র্যাম্পিং হতে পারে।

ক্লান্তি বা ক্লান্তি। অতিরিক্ত পরিমাণে জল পান করার ফলে আপনার কিডনি অতিরিক্ত পরিমাণ অপসারণ করতে খুব বেশি পরিশ্রম করে। এটি একটি হরমোন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে যা আপনাকে চাপ এবং ক্লান্ত বোধ করে। বেশি পরিমাণ পানি পান করার পরে যদি আপনি বিছানা থেকে উঠতে না পারেন তবে এটি আপনার কিডনি বেশি পরিশ্রম করছে।
0 টি ভোট
করেছেন (6,430 পয়েন্ট)
নিয়মিত পরিমাণমত পানি পান করলে অনেক রোগ সেরে যায়। সাধারণ কিছু অসুখের কথা শুনলে সবাই বেশি পানি পানের পরামর্শই দেন। ডিহাইড্রেশনের কারণেও নানা ব্যাধির শিকার হই আমরা। তবে অতিরিক্ত পানি পান করলে যেসব বিপদ হতে পারে তা জেনে নিন।

 

বেশি পানি পান করলেই খেলেই রোগমুক্ত থাকা যায়-চিকিৎসকদের মতে, একেবারেই তা নয়। বরং উল্টোটাও হয়ে থাকে। অতিরিক্ত পানি পান বরং স্বাস্থ্যের পক্ষে কিছু ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

 

পানি পানে পেট ঠান্ডা থাকে। পানি পানে ত্বক ভালো থাকে, পেশীশক্তি বাড়ে। পানি পানে কিডনি, লিভার, ফুসফুস শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকে। মোটের উপর পানি পান অভ্যাস শুধুই গুণে ভরা। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন অতিরিক্ত পানি পানে সব সময় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

 

ভারতীয় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অমিত ঘোষ বলছেন, জল খাওয়া অবশ্যই ভালো। কিন্তু প্রত্যেকের ওজন আর কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে শরীরে জলের চাহিদা। কে কতটুকু জল খাবেন, তা নির্ভর করবে ওই জলের চাহিদার উপরেই। বেশ কিছু অসুখে জলের পরিমাণ কমাতে হয়। বেশি জল সে ক্ষেত্রে শরীরেই জমে যায়।

 

এ ছাড়া অতিরিক্ত পানি পানে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমতে থাকে। রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে ক্লান্তি ভাব আসে। সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, বমি ভাব, মাথার যন্ত্রণা হতে থাকে। অতিরিক্ত প্রস্রাবের ফলেই আরও কমতে থাকে সোডিয়ামের পরিমাণ। বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি করে দেখা যায় বলেই মত চিকিৎসকদের।

 

‘আমেরিকান হেলথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষণা অনুসারে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল খেলে ওভারহাইড্রেশন হতে পারে। এর ফলে শরীরের কোষগুলো ফুলে যেতে থাকে। মস্তিষ্কের কোষও ফুলতে থাকে। এর থেকে ব্রেন স্ট্রোক পর্যন্ত হওয়ারআশঙ্কা থাকে।

 

তা থেকে পিঠে ব্যথা, বুকে ব্যথা, লিভারে সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জল খেলে হার্টের উপরেও চাপ পড়তে থাকে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা পর্যন্ত থাকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, তেমনটা মোটেও নয়, তবে পরিমাণ বুঝে পান করতে হবে পানি। দিনে অন্তত তিন লিটার পানি পান সোজাসাপ্টা হিসাব সব সময় কাজ করে না। প্রত্যেকের শরীরের গঠন আলাদা। চাহিদাও আলাদা। তাই শরীরের প্রয়োজন বুঝেই পানি পান করা উচিত।
0 টি ভোট
করেছেন (28,740 পয়েন্ট)
সাধারন কে কতটুকু পানি খাবে সেটা তার শরীরের ওজনের উপর নির্ভর করে। সাথে তার জীবনযাপন এবং পরিবেশও সম্পর্কযুক্ত। তবে অন্তত প্রতিদিন তিন লিটার পানি পান করা উচিত।
0 টি ভোট
করেছেন (6,510 পয়েন্ট)

সেই ছোটবেলা থেকে আমরা পড়ে এসেছি- "পানির অপর নাম জীবন" আর পানি ছাড়া আমরা বাঁচতে পারব না- কথাটি সত্য! অনেকে আবার চালাকি করে বলে থাকেন- শুধু পানি নয়, বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন। যাইহোক অতিরিক্ত কোন কিছুই যেমন ভালো না, তেমন অতিরিক্ত বিশুদ্ধ পানি পান করার মাধ্যমেও আপনার শরীরে বিষাক্ততা তৈরি হতে পারে। কথাটি শুনতে আশ্চর্যজনক মনে হলেও বাস্তবে অতিরিক্ত পানি পান করার মাধ্যমে মানুষের শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, মানুষ কোমায় চলে যেতে পারে আর মৃত্যুও ঘটতে পারে! চলুন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করলে আমাদের শরীরে কি প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে আজকের আলোচনা শুরু করি।

মানবদেহের উদরগহ্বর এ অবস্থিত দুটো বৃক্ক/কিডনি আমাদের শরীরের পানির সাম্যতা রক্ষা করে। মানুষের বৃক্ক বা কিডনি প্রতিনিয়ত নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস জালিকার মাধ্যমে রক্ত বিশোধোন করে দেয় এবং পাশাপাশি বৃক্কীয় নালিকার ক্ষরণ আর শোষণ এর মাধ্যমে শরীরের বিপাকীয় বর্জ্য সমৃদ্ধ মূত্র তৈরি করে। মূত্র তৈরির মাধ্যমে আমাদের দেহের বৃক্কগুলো সর্বোচ্চ প্রতি ঘন্টায় ৮০০ থেকে ১০০০ মিলি পানি শরীর থেকে বের করে দিতে পারে। আর অল্প কিছু পরিমাণ পানি ঘাম এবং শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে বের হতে পারে। তবে যদি কেউ একক সময়ে শরীরের স্বাভাবিক উপায়ে পানি বের করার সক্ষমতার থেকে বেশি পানি পান করে তাহলে তার শরীরে পানির দ্বারা বিষাক্ততা তৈরি হতে পারে যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় "ওয়াটার ইনটক্সিকেশন" (Water intoxication)।

আমাদের শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করলে বৃক্ক/কিডনি গুলো সেই সবটুকু পানি নিয়মিত হারে শরীর থেকে বের করতে ব্যর্থ হয়ে পড়ে, আর অতিরিক্ত পানি আমাদের শরীরের কোষগুলোতে জমা হতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের দেহের কোষগুলোর বাইরের তরল মাধ্যমে কোষের ভেতরের তুলনায় সোডিয়াম আয়নের পরিমাণ বেশি থাকে। পানির দ্বারা বিষক্রিয়ার শুরুতে যখন অতিরিক্ত পরিমাণে পানি কোষগুলোর বাইরের তরল মাধ্যমে জমা হতে থাকে, তখন দ্রবণের আয়তন বেড়ে যাওয়ায় সোডিয়াম আয়নের ঘনমাত্রা কমে যেতে থাকে। আর একপর্যায়ে কোষের ভেতরে আর বাইরে তরল মাধ্যমগুলোর সোডিয়াম আয়নের অভিস্রবণিক সাম্যাবস্থা রক্ষা করার প্রয়াসে অতিরিক্ত পানি কোষগুলোর ভেতরে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় ঢুকতে শুরু করে। কোষগুলোর আয়তন বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর তখনই বিপত্তির শুরু হয়! শরীরের কোষগুলোর আয়তন পানির দ্বারা বিষক্রিয়ায় বেড়ে যেতে থাকলে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হয়। যেমন: মাংসপেশির শক্তি হ্রাস পেতে থাকে আর পরিপাকতন্ত্রে গোলযোগ সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত পানিপানে সৃষ্ট বিষাক্ততায় সবথেকে বেশি ভয়াবহতা দেখা যায় মস্তিষ্কের নিউরন আর সাহায্যকারী কোষগুলোতে। শরীরের অন্যান্য কোষগুলো তুলনামূলক কোমল যোজক কলার (Connective tissue) এর আচ্ছাদনে আবৃত থাকে। তবে মস্তিষ্কের কোষগুলো যথেষ্ট শক্ত অস্থিময় করোটির মাধ্যমে আচ্ছাদিত থাকে। তাই অতিরিক্ত পানির ঢুকে পড়ার জন্য মস্তিষ্কের কোষগুলোর আয়তন শক্ত এক কোটরের মধ্যে বৃদ্ধি পেতে থাকে আর সাথে সাথে মস্তিষ্কের কোষগুলোর অভ্যন্তরীণ চাপ প্রচণ্ড পরিমাণ বেড়ে যেতে থাকে। এজন্য মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। প্রচণ্ড পরিমাণ মাথাব্যথা শুরু হয় আর শারীরিক সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। পানির দ্বারা বিষক্রিয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে খিচুনি ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি কোমায়ও চলে যেতে পারেন। শরীরের বিভিন্ন তন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি সাধন হতে পারে, মস্তিষ্কের নিউরন মারা যেতে পারে আর ফলশ্রুতিতে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারে।  

উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন ৬০ বছর বয়সী মহিলা একদিন ৩০-৪০ গ্লাস( প্রতি গ্লাস=২৫০ মিলি করে) পানি পান করে সেই দিনের সন্ধ্যায় মস্তিষ্কের ভয়াবহ নিষ্ক্রিয়তা জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন, বিশেষ করে ম্যারাথন জাতীয় লম্বা সময় আর দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতায় দৌড়বিদদের মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করার প্রবণতা দেখা যায়, যার কারণে তাদের প্রতি ছয়জনের  মাঝে একজনের অতিরিক্ত পানি পানের কারণে সৃষ্ট বিষাক্ততার লক্ষণ দেখা যায়।

তাহলে, অতিরিক্ত পানি পান করার ব্যাপারটি কিভাবে প্রতিহত করতে পারেন?

একজন সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২-৩ লিটার পানি পান করলেই শরীরের পানি সাম্যতা ঠিক থাকবে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, যখন তৃষ্ণা লাগে তখন পরিমিত পানি বা পানীয় পান করবেন আর খাবারের পরে পানি পান করবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়। আর অকারণে বেশি পানি/পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

লেখকঃ ফাহাদ মান্নান-Team Science Bee

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

+5 টি ভোট
2 টি উত্তর 112 বার দেখা হয়েছে
0 টি ভোট
3 টি উত্তর 232 বার দেখা হয়েছে
+1 টি ভোট
3 টি উত্তর 1,434 বার দেখা হয়েছে
+2 টি ভোট
3 টি উত্তর 237 বার দেখা হয়েছে
+3 টি ভোট
4 টি উত্তর 127 বার দেখা হয়েছে

9,130 টি প্রশ্ন

15,165 টি উত্তর

4,506 টি মন্তব্য

111,723 জন সদস্য

104 জন অনলাইনে রয়েছে
8 জন সদস্য এবং 96 জন গেস্ট অনলাইনে
  1. JudyRoller5

    100 পয়েন্ট

  2. IgnacioConna

    100 পয়েন্ট

  3. Eftekhar

    100 পয়েন্ট

  4. MargaritaN63

    100 পয়েন্ট

  5. Hugo3234418

    100 পয়েন্ট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর সাইট সায়েন্স বী QnA তে আপনাকে স্বাগতম। এখানে যে কেউ প্রশ্ন, উত্তর দিতে পারে। উত্তর গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই একাধিক সোর্স যাচাই করে নিবেন। অনেকগুলো, প্রায় ২০০+ এর উপর অনুত্তরিত প্রশ্ন থাকায় নতুন প্রশ্ন না করার এবং অনুত্তরিত প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি উত্তরের জন্য ৪০ পয়েন্ট, যে সবচেয়ে বেশি উত্তর দিবে সে ২০০ পয়েন্ট বোনাস পাবে।


Science-bee-qna

সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ট্যাগসমূহ

মানুষ পানি ঘুম এইচএসসি-উদ্ভিদবিজ্ঞান এইচএসসি-প্রাণীবিজ্ঞান জীববিজ্ঞান রোগ চোখ পৃথিবী - শরীর পদার্থ রক্ত কী মোবাইল ক্ষতি আলো চিকিৎসা এইচএসসি-আইসিটি চুল মাথা মহাকাশ সূর্য বৈজ্ঞানিক পদার্থবিজ্ঞান প্রাণী পার্থক্য কেন স্বাস্থ্য প্রযুক্তি গরম ডিম কারণ #জানতে রং খাওয়া বৃষ্টি শীতকাল গণিত #biology উপকারিতা রাসায়নিক কাজ চাঁদ আগুন সাপ বিদ্যুৎ বিজ্ঞান রাত সাদা লাল খাবার উপায় শক্তি দুধ গাছ ভয় আবিষ্কার #ask ব্যাথা মশা ঠাণ্ডা হাত কি মনোবিজ্ঞান মাছ শব্দ গ্রহ কালো উদ্ভিদ বৈশিষ্ট্য সমস্যা পা রসায়ন হলুদ ভাইরাস স্বপ্ন রঙ আম মেয়ে মস্তিষ্ক মন বাতাস ব্যথা পাখি চার্জ গ্যাস পাতা কান্না বিস্তারিত দাঁত বিড়াল আকাশ #science নাক মৃত্যু কুকুর হরমোন তাপমাত্রা পাকা
...