কী হবে যদি অর্ধেক জনসংখ্যাই হুট করে উধাও হয়ে যায়?

এই পৃথিবীতে প্রায় ৭.৭ বিলিয়ন মানুষ বাস করে। আর এই সংখ্যাটা প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। কিন্তু কী হবে যদি অর্ধেক জনসংখ্যাই হুট করে উধাও হয়ে যায়? থানসের স্নাপে যদি সত্যিই অর্ধেক মানুষ বালি হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়?

আর আপনি যদি ভাগ্যবানদের একজন হন তবে আপনার সাথে পরবর্তীতে কী হবে? চোখের পলকে ৫০% মানুষের উধাও হওয়া হয়তো ভালো শোনাচ্ছে, কিন্তু এটা পৃথিবীর বিশাল বিশৃঙ্খলার কারণ হতে পারে। যেমন
প্লেন ক্র্যাশ,
যেকোনো মুহূর্তে আকাশে প্রায় ১০,০০০ প্লেন প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ নিয়ে উড্ডয়মান। অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে অবশ্যই অনেক পাইলট থাকবে। আর এটা মাটিতে থাকা মানুষদের জন্যও চিন্তার বিষয়। যেহেতু প্ল্যানগুলো কোথায় ক্র্যাশ করবে তা সম্পূর্ণভাবে আনপ্রেডিক্টেবল।

একই কারণে অনেক কার আর ট্রেন এক্সিডেন্টও হবে। এই সময় সার্জারি টেবিলেও কেউ থাকতে চাবেনা। চিন্তা করুন অপারেশন এর মধ্যেই আপনার সার্জন উধাও হয়ে গিয়েছে। আপনি যদি এই ঘটনাগুলো থেকেও বাঁচতে পারেন, তাও খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনাকে এরপর বাঁচতে হবে অনেক বন্ধুবান্ধব আর পরিবার-পরিজন ছাড়া।

পৃথিবীব্যাপী দমকল কর্মী, পুলিশ বাহিনী বা রাজনৈতিক নেতাদের সংখ্যা অনেক কমে যাবে। লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করবে। মানুষের নিরাপত্তাও কমে যাবে। কিছু সময়ের জন্য আমাদের খাদ্য সরবরাহেও প্রচুর সমস্যার সৃষ্টি হবে। কারণ, যে সকল মানুষ খাদ্য বানান, বিক্রি করেন বা শিপিং করেন তাদের সংখ্যা অনেক কমে যাবে।


এরপর কী হবে? মানবসভ্যতা কী নতুন পৃথিবীর সাথে মানিয়ে নিতে পারবে? আশ্চর্যকর ব্যাপার হচ্ছে, আমরা অনেকটা এ ধরনের সমস্যার সাথে আগেই মোকাবেলা করেছি, যেটা ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত। চৌদ্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ইউরোপে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে পুরো মহাদেশের প্রায় ৬০% মানুষ মারা যায়

এতো মৃত্যু বা দুর্দশা থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর এই ঘটনা থেকে বেশ লাভবানও হয়েছিল। মানুষের সংখ্যা এতো হ্রাস পাওয়ায় খাদ্যের অভাব অনেক কমে গিয়েছিল। আজকের পৃথিবীর জন্যও একি অবস্থা প্রযোজ্য। প্রতি বছর প্রায় ৩৬ মিলিয়ন মানুষ খেতে না পেরে মারা যায়।

সুবিধা এখানেই শেষ নয়। মানুষের সংখ্যা কমে গেলে যারা বেঁচে থাকবে তারা আগের থেকে আরো ধনী হবে। কম মানুষ থাকায় স্কিলড্ মানুষের চাহিদা বেড়ে যাবে। এতে করে আয় বৃদ্ধি পাবে। একইসাথে অনেক বাসা খালি পরে থাকায় বসবাসের খরচও কমে যাবে।

পরিবেশগত ভাবেও বেশ সুবিধা পাওয়া যাবে। কম মানুষ মানে কম দূষণ। পৃথিবী আস্তে আস্তে ক্লাইমেট চেঞ্জ এর ক্ষতিকর প্রভাব গুলো কাটিয়ে উঠতে শুরু করবে আর আগামী ১০০ বছর আমরা বেশ সাচ্ছন্দেই চলতে পারবো।

প্রতিবছর শিকার, খাদ্যের চাহিদা, বন উজাড়সহ বিভিন্ন কারনে প্রচুর পরিমাণে পশুপাখি মারা হয়। মানুষ কমে গেলে পশুপাখির পরিমাণও সেক্ষেত্রে বেড়ে যাবে।

এতো গেলো জনসংখ্যা অর্ধেক হলে কী হবে তা। কিন্তু হঠাৎ করে পুরো পৃথিবীর মানুষ দ্বিগুণ হলে কী হবে? এমনটা হলেও মানবজাতি হয়তো টিকে থাকতে পারবে। কারণ, মূল সমস্যা আমদের সংখ্যা নয়, বরং এটা নির্ভর করে কিভাবে আমরা পৃথিবীর সম্পদগুলোকে ব্যবহার করছি। কাগজ-কলমের হিসাবে ১৪ বিলিয়ন মানুষ নিয়েও আমরা বেশ সমৃদ্ধশালী পৃথিবী গড়তে পারি, যদি রিসোর্সগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।

কমেন্ট করুন...