নিউজটা পড়ার আগে চলুন স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেই। স্পাইওয়্যার হলো এক ধরনের ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার। এটি ব্যবহারকারীকে না জানিয়েই তাঁর ডিভাইসে ইনস্টল করে দেয় হ্যাকার। এরপর সেটি ডিভাইসে লুকিয়ে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দেয় হ্যাকারের কাছে। Pegasus Spyware– এই ভাইরাস তথা ম্যালওয়্যারটি কোনো লিংকের মাধ্যমে আইফোন কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পাঠানো যায়। সেই লিংক ফোনের ব্যবহারকারী ক্লিক করলেই তার ফোনে সক্রিয় হয়ে যায় এই স্পাইওয়্যার। আবার ভয়েস কলের মাধ্যমেও এই সক্রিয় করা যায়। সংশ্লিষ্ট ফোনের ব্যবহারকারী তা টেরও পাবেন না।
এই ম্যালওয়ার আইফোন কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ঢুকে ব্যবহারকারীর মেসেজ, ছবি, ইমেইল পাচার করতে পারে। একইসঙ্গে কল রেকর্ড এবং গোপনে মাইক্রোফোন চালুও রাখতে পারে এটি। ফোনের মাধ্যমে বলা কথা, বার্তা, ম্যাসেজ, ছবি, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, এমনকি ছবিও পেগাসাসের মাধ্যমে হ্যাকার পেতে পারে। এই ম্যালওয়্যারটি ফোনে থাকলে ফোনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে প্রতিটি তথ্যই ওই হ্যাকারের কাছে পৌঁছাতে পারে।

কারা এই আক্রমণের শিকার?!
লিস্ট অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক কিংবা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম্বার পাওয়া গিয়েছে। বিশ্বের ৫০টি দেশের ১০০০ এর বেশি নাম্বার এই লিস্টে পাওয়া গিয়েছে। ১৮০ জনেরও বেশি সাংবাদিকদের লিস্ট এখানে রয়েছে যাদের মধ্যে সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস ও আল-জাজিরার সাংবাদিকরাও অন্তর্ভুক্ত।
এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে মোট কতটি ডিভাইসে এটি ছড়িয়েছে। ফরেন্সিক অ্যানালাইসিসের মতে, সন্দেহভাজন নাম্বারগুলোর ৩৭ টির মধ্যে কোনোটির অ্যাটেম্পট করা হয়েছে কিংবা কোনোটিতে সফলভাবে এন্ট্রি হয়েছে।

এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে প্রয়াত জার্নালিস্ট জামাল খাসোগির হত্যা সম্পর্ক নিয়ে, ধারণা করা হয়, তার বাগদত্তার ফোনে ২০১৭ এর সেপ্টেম্বরে এই স্পাইওয়্যার প্রবেশ করে৷
বরাবরের মতো NSO সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তাদের ভাষ্যমতে তারা শুধু গভর্মেন্টের কাছে সফটওয়্যার বিক্রি করে থাকে, অন্য কোনো জায়গায় নয়। তবে এত দিন পরেও হঠাৎ কেন এই কথা উঠে আসছে?
এই লিস্ট হওয়া ফোনের তালিকায় যে আইফোনের নামও উঠে এসেছে। হ্যাঁ, আইফোন সবসময় সম্পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও এইখানে সেটি খাটছে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, সর্বশেষ মডেলের আইফোনে সর্বশেষ সংস্করণের সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকলেও তাতে আড়ি পাততে পেরেছে NSO এর Pegasus- Spyware ভাইরাস-ম্যালওয়্যারটি।
প্যাট্রিক ওয়ার্ডলের মতে, “যে নিরাপত্তা সুবিধা নিয়ে অ্যাপল বড় গলায় কথা বলে, সেটি মূলত দুই পাশে ধারওয়ালা তরবারি। কারণ, আইমেসেজে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা আছে। অর্থাৎ কার আইফোন থেকে স্পাইওয়্যারটি ছড়াল, তা জানাও সম্ভব নয়। সাইবার হামলাকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে সেটি চমৎকার।”

ওয়ার্ডল আরও বলেছেন, “হ্যাকার একবার ডিভাইসে প্রবেশ করলে সে ডিভাইসের নিরাপত্তা সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। সুতরাং উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, আমার আইফোন হ্যাক হলে আমার নিজেরই বোঝার উপায় নেই। অন্যদিকে আমার ম্যাক কম্পিউটারটি হ্যাকারের জন্য তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য, তবে তাতে চলমান কাজগুলোর তালিকা আমি পরীক্ষা করে দেখতে পারি, তাতে একটি ফায়ারওয়াল আছে, যেখানে ঠিক করে দিতে পারি ইন্টারনেটে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না।”
হোয়াটসঅ্যাপ ২০১৯ সালে NSO এর বিরুদ্ধে ১৪০০ সাইবার অ্যাটাক এর কথা তুলে ধরেছিলো। সেই সময়েও NSO এটিকে অস্বীকার করে। তারপরও হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ NSO কে তাদের সার্ভিস থেকে ব্যান করে দেয়।
মিথিলা ফারজানা মেলোডি/ নিজস্ব প্রতিবেদক
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি, নিউ-ইয়র্ক টাইমস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্যা গার্ডিয়ান














