মানব টিস্যু ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম থ্রিডি হার্ট আবিস্কার

চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত নতুন কিছু উদ্ভাবন হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই বিপ্লবের শুরু হয়েছিল ইবনে সিনা ও সমসাময়িক আরও কিছু উদ্ভাবকের হাত ধরে। একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তি আমাদের এমন এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে যে কোনো কাজই আর অসম্ভব নয়।

ওপেন হার্ট সার্জারী থেকে শুরু করে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের মতো চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। অতি সম্প্রতি ইসরায়েলি গবেষকদের একটি দল বিশ্বের প্রথম ভাস্কুলারাইজড থ্রিডি হার্ট তৈরির দাবি করেছে। ”জেরুজালেম পোস্ট” নামক একটি জার্নালে এটি প্রকাশিত হয়।

তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল হৃদপিণ্ডটি তৈরি করেছেন যা রোগীর নিজস্ব কোষ এবং জৈবিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
এযাবৎ কালে বিজ্ঞানীরা রক্তনালী ছাড়া কেবলমাত্র সাধারণ টিস্যুগুলি সফলভাবে তৈরি করতে পেরেছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মলিকিউলার সেল বায়োলজি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক তাল ডভির ভাষ্যমতে, ”বিশ্বে এই প্রথম কেউ রক্তনালি ও হার্ট চেম্বারসহ থ্রিডি হৃদপিণ্ড তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।”


অধ্যাপক তাল ডভির’র নেতৃত্বে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি টিএইউর জীবন বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক আসফ শাপিরা এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থী নাদভ মুরের সাথে কাজ করেছেন। তাদের গবেষণা Advnce Science-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

হৃদরোগ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ইসরায়েলে এটি মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ (ক্যান্সারের পরে)। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মতে, ২০১৩ সালে ইস্রায়েলে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৬% হৃদরোগের কারণে হয়েছিল। হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনই শেষ পর্যায়ের হৃদরোগীদের জন্য একমাত্র চিকিতসা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের রোগীদের অপেক্ষার তালিকাটি ছয় মাস বা তারও বেশি হতে পারে। ইস্রায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অনেক রোগী বেঁচে থাকার সম্ভাবনার প্রত্যাশায় অপেক্ষমান তালিকায় থাকা অবস্থায় মারা যায়। তাল ডভির বলেন,”এই হৃদপিন্ডটি মানুষের কোষ এবং রোগীর-নির্দিষ্ট জৈবিক উপকরণ থেকে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের এই প্রক্রিয়াতে, এই জৈবিক পদার্থগুলি বায়ো-ইনস হিসাবে কাজ করেছে যা প্রোটিন দিয়ে তৈরি পদার্থ। ফলে জটিল টিস্যু মডেলের 3D প্রিন্টিংয়ের জন্য ব্যবহার করা গেছে।”

তাল ডভির আরও বলেন,” অতীতে গবেষকরা হৃদপিন্ডের কাঠামো থ্রিডি-প্রিন্ট করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু কোষ বা রক্তনালী দিয়ে নয়। আমাদের ফলাফল ভবিষ্যতে কৃত্রিম টিস্যু এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন পদ্ধতির সম্ভাবনা প্রদর্শন করে।” এই পর্যায়ে, টিএইউতে উৎপাদিত 3-ডি হার্ট একটি খরগোশের জন্য উপযুক্ত।


তবে গবেষকরা ধারণা করেছেন যে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের হৃদপিন্ড তৈরি করা যেতে পারে। এক সূত্রমতে, গবেষণার জন্য ফ্যাটি টিস্যুর একটি বায়োপসি রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। টিস্যুর সেলুলার পদার্থগুলো সেসময় আলাদা করা হয়। কোষগুলো প্লুরোপোটেন্ট স্টেম সেলে পুনর্গঠিত হয়েছিল যা কার্ডিয়াক বা এন্ডোথেলিয়াল কোষ হতে দক্ষতার সাথে পৃথক হতে পারে।

এক্সট্রা সেলুলার ম্যাট্রিক্স (ইসিএম), কোলাজেন এবং গ্লাইকোপ্রোটিনের মতো এক্সট্রা সেলুলার ম্যাক্রোমোলিকুলের ত্রি-মাত্রিক নেটওয়ার্ককে একটি কৃত্রিম হাইড্রোজলে প্রক্রিয়া করা হয়েছিল যা “কালি” মুদ্রণ হিসাবে কাজ করেছিল।

ডভির আরও বলেন,”তাদের পরের পদক্ষেপটি হলো কৃত্রিম এই হৃৎপিণ্ডকে মানুষের হৃদপিন্ডের মতো আচরণ করতে শেখানো। প্রথমত, তারা এগুলো প্রাণীতে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে প্রতিস্থাপন করবে। আশার কথা হল যে, ১০ বছরের মধ্যে, বিশ্বের সেরা হাসপাতালগুলিতে অরগান প্রিন্টার থাকবে এবং নিয়মিতভাবে এই পদ্ধতিগুলো পরিচালিত হবে।”

কমেন্ট করুন...