বেশী লবণ খাওয়া দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়

অতিরিক্ত লবন খাওয়া বা খাদ্যের ব্যবহার করা বা রক্তচাপের জন্য যেমন ক্ষতিকর ঠিক তেমনই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ আমাদের ইমিউন সিস্টেমেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। 

বন হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মাধ্যমে এই তথ্যটি পাওয়া যায়।গবেষকরা যখন একদল ইঁদুরগুলোকে উচ্চ লবণের ডায়েট জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করায় তখন দেখা যায় যে ইঁদুরগুলো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।


আবার স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কিছু মানুষকে যখন প্রতিদিন প্রয়োজনীয় লবণের চাহিদার তুলনায় ছয়গ্রাম বেশি লবণ খাওয়ানো হয় তখন তাদের দেহ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে পাঁচ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণের প্রয়োজন নেই।রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় পুরুষের প্রতিদিন ১০ গ্রাম ,মহিলারা ৮ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ করছে। অর্থাৎ আমরা আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ আমাদের দেহে কনজিউম করছি।

অতিরিক্ত গুগল সার্চ,ফেসবুক কমেন্টের কারণে বাড়ছে কার্বন নিঃসরণ


আবার সোডিয়াম ক্লোরাইড (লবণ এর রাসায়নিক নাম) আমাদের শরীরে রক্তচাপ বাড়ায় এবং এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। বন ইউনিভার্সিটি এর ইউনিয়ন গবেষণাগারের প্রফেসর ডঃ ক্রিশ্চিয়ান কুর্টস বলেন ,তারা প্রথমবারের মতো প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে মানব দেহে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
 
তবে এই ধরনের বিপরীত কিছু তথ্য রয়েছে | কিছু গবেষকরা অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে উপকারিতা আছে বলে জানিয়েছে।যেমন পরীক্ষাগারে যেসব প্রাণীদের উচ্চ লবণযুক্ত খাবার খাওয়ানো হয়েছিল দেখা গেছে সেইসব প্রাণীদের ত্বকের পরজীবী সংক্রমণ দ্রুততর নিরাময় হয়ে যায়।

একটি কাজ করা ও সাথে নোটিফিকেশন চেক
করা কর্মদক্ষতাকে ৪০% কমিয়ে দিতে পারে।


এই ভিন্নমতের কারণ রয়েছে। শরীর রক্তসহ বিভিন্ন অঙ্গে লবণের ঘনত্ব একই রাখার জন্য চেষ্টা করে। কেননা লবণের ঘনত্ব ঠিক না থাকলে জৈব রাসায়নিক কার্যকলাপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কিন্তু এক্ষেত্রে ত্বকের কার্যক্রম একটু ভিন্ন কেননা ত্বক লবণের যোগান দেওয়ার কাজ করে।তাই সোডিয়াম ক্লোরাইড (লবণ) ত্বকের কিছু রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে সাহায্য করে।

করোনা ভাইরাসের সকল আপডেট


খাবারের সাথে খাওয়া অতিরিক্ত লবণ কিডনি থেকে ফিল্টার হয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয় এবং তখনই কিডনিতে থাকা সোডিয়াম ক্লোরাইড সেনসর এই নির্গমনকে সক্রিয় করে। এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সেন্সরটি গ্লুকোকর্টিকয়েড শরীরে জমা করে।
যার ফলে গুলো রক্তে থাকা প্রতিরোধক কোষের গ্রানুলোকাইটসের কাজ কে বাধা দেয়। ম্যাক্রোফেজ এর মত গ্রানুলোকাইটস হল স্ক্যাভেঞ্জার কোষ।
 

সোডিয়াম ক্লোরাইড মানুষের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেছেন অধ্যাপক কুর্টস।কেননা 6 গ্রাম লবণ গ্রহণকারীদের পরীক্ষা করে দেখা গেছে দুটি বার্গার ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই গ্রহণ করার সমান ক্ষতি তাদের দেহে হয়।

পরবর্তীতে দেখা যায় প্রতিশোধমূলক কোষগুলো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণকেই তেমনভাবে সামাল দিতে পারে না। অতিরিক্ত গ্লুকোকর্টিকয়েডের মাত্রা যেহেতু লবণ বেশি গ্রহণ করার কারণে বাড়ে তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ।

Materials provided by University of Bonn.
করোনাভাইরাস প্রসঙ্গ-
১।রক্তের গ্রুপ ‘A’ হলে করোনা ঝুঁকি বেশি, ‘O’ হলে সবচেয়ে কম – বলছে চীনা গবেষণা
২।লবণ মেশানো গরম পানি কি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করে ?-না
৩।করোনা যেভাবে আপনার শরীরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে !(ইন্টারেক্টিভ ডিজাইনসহ)
৪।ফ্যাক্ট চেক: (মিথ্যা) এক টুকরা লেবুতেই ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস
৫।আমেরিকা বা চীনের ষড়যন্ত্র নয়।করোনাভাইরাস এসেছে প্রকৃতি থেকেই-গবেষণা