একটি কাজ করা ও সাথে নোটিফিকেশন চেক করা কর্মদক্ষতাকে ৪০% কমিয়ে দিতে পারে।

ফেসবুকবিহীন জীবন, প্রশান্তির জীবনঃ সীমিত ব্যাবহারে নিশ্চিত করুন দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন।
২ সপ্তাহ ধরে দিনে ২০ মিনিটের কম ফেসবুক ব্যবহার ; জার্মানির রুহর- ইউনিভার্সিটি অব ব্রখম এর একদল মনবিজ্ঞানী ১৪০জন লোকের উপর এই পরীক্ষাটি চালিয়েছেন।
ভাগ্যবান এই ১৪০জন পরবর্তীতে শারীরিকভাবে বেশ সক্রিয় ছিলেন ও ধূমপানও কম করেছেন। সাথে এদের ফেসবুক আসক্তিও কমে গিয়েছিল। অবাক করা ব্যাপার হল, এসব প্রভাবগুলো পরীক্ষাটি করার পরবর্তী ৩ মাস পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো।

 একদল গবেষক ২৮৬জন লোক নিয়ে গবেষনা শুরু করল যারা দিনে কমপক্ষে ২৫ মিনিট ফেসবুক ব্যবহার করত;  এরা কেউ কেউ দিনে গড়ে ১ ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করত। গবেষকরা এদের মধ্যে ২টি দলে ভাগ করলেন যাদের মধ্যে ১৪৬জন আগের মতই ফেসবুক ব্যাবহার করতে লাগলেন।

বাকি ১৪০ জন তাদের ফেসবুক ব্যাবহার দিনে ২০ মিনিটে কমিয়ে আনলেন যা দিনে গড় সময়ের একতৃতীয়াংশ। গবেষনার ফলাফলে দেখা গেলো ১৪০জন নিজেদের সদিচ্ছায় ফেসবুক ব্যাবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনলেন।

ডঃজুলিয়া ব্রেইলসভিকা এর মতে, ‘’ কোন অভ্যাস যদি আমরা ছাড়তে চাই তবে তা হঠাৎ করে ছেড়ে দিতে চাইলে তা আমাদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও ঈর্ষাপরায়ণতার সৃষ্টি করে।‘’ সুতরাং কোন অভ্যাস ধীরে ধীরে কমিয়ে আনাটা বেশি কার্যকর।
গবেষনায় আরো প্রমাণিত হয়েছে  ফেসবুক কম ব্যবহারের ফলে যে কোনো ধরনের আসক্তিমূলক অভ্যাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

ধরুন আপনি অফিসে কাজ করছেন, হঠাৎ ফেসবুক নোটিফিকেশনের আওয়াজে আপনার মনোযোগ চলে গেলো ফোন এর দিকে। এরকম পরিস্থিতির শিকার আমরা হরহামেশাই হচ্ছি।

ফ্যাক্ট চেক: (মিথ্যা) এক টুকরা লেবুতেই ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস

ডিউক ইউনিভার্সিটির এক গবেষনায় দেখা গিয়েছে ফেসবুক নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখলেও মনে মনে অস্বস্তি হতে থাকে যে আপনি কিছু মিস করে ফেলছেন কিনা। আমেরিকান মনবিজ্ঞানী সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে বার বার সোশাল মিডিয়াতে নোটিফিকেশন চেক করা ও সাথে আরেকটি কাজ করা; এটি কর্মদক্ষতাকে ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়াও অতিরিক্ত সোশাল মিডিয়া ব্যাবহারের ফলে মানুষ তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর পরিবর্তে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকছে।

এ তো গেলো সোশাল মিডিয়ার খারাপ দিকগুলো। কিন্তু কিভাবে পারবেন সোশাল মিডিয়ার ব্যাবহার কমাতে?  জনপ্রিয় অ্যাপ ‘ক্যালেন্ডার’ এর নির্মাতা জন হল এর মতে আপনি যখন অনেকক্ষণ সোশাল মিডিয়াতে যাবেন না তখন ‘’ আমি কিছু মিস করে ফেললাম কিনা’’ এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

করোনা ভাইরাসের সকল আপডেট

আপনাকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে আপনি কিছু জিনিস মিস করে ফেলছেন এবং এটাই স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার দৈনন্দিন জীবন শুধুমাত্র সোশাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আপনার আরো গুরুত্বপূর্ণ  কাজ রয়েছে।

এরপরও যদি আপনি সোশাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে সক্ষম না হন তাহলে কিছু শখের কাজে নিজেকে জড়াতে পারেন যেমন বাগান করা, সাইক্লিং করা, মেডিটেশন , স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা ইত্যাদি।

মনে রাখবেন কখনই সোশাল মিডিয়াকে সর্বপ্রথম প্রাধান্য দেওয়া যাবেনা। সোশাল মিডিয়া ছাড়াও খুব সহজেই চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা সম্ভব।

করোনাভাইরাস প্রসঙ্গ-
১।রক্তের গ্রুপ ‘A’ হলে করোনা ঝুঁকি বেশি, ‘O’ হলে সবচেয়ে কম – বলছে চীনা গবেষণা

২।লবণ মেশানো গরম পানি কি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করে ?-না

৩।করোনা যেভাবে আপনার শরীরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে !(ইন্টারেক্টিভ ডিজাইনসহ)


৪।ফ্যাক্ট চেক: (মিথ্যা) এক টুকরা লেবুতেই ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস