পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে গ্রহাণু, পৃথিবী কি ঝুঁকির সম্মুখীন? -না

“পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে গ্রহাণু, ধ্বংস হয়ে যেতে পারে সব” আমরা প্রায়ই এমন ভুল খবর পাই, কিন্তু এবার আসলেই একটি গ্রহাণু ছুটে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবীর পাশ কেটে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রায় ১.১ মাইল (২.৪ কি.মি.) প্রশস্ত এই গ্রহাণুটির নাম দিয়েছে ৫২৭৬৮ বা ১৯৯৮ ওআর২ (52768/1998 OR2)। ১৯৯৮ সালে প্রথম এই গ্রহাণু চিহ্নিত করা হয়, যা থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। গ্রহাণুটি  ২৯ শে এপ্রিল পৃথিবীকে অতিক্রম করবে, এমনটাই জানিয়েছে নাসা।

Science Bee | Daily Science

শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, পুয়ের্তো রিকোর এরিসিবো অবজারভেটরি (Arecibo observatory) রাডারের মাধ্যমে তোলা গ্রহাণুটির কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্যমতে গ্রহাণুটি এমন, যেন এটি মাস্ক পরে রয়েছে। এই রাডার চিত্রগুলো থেকে গ্রহাণুটির বর্তমান দূরত্ব সম্পর্কে ধারনা পাওয়া গেছে। 

বোঝার সুবিধার্থে বলা যায়, পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ২৩৯,০০০ মাইল (৩৮৫,০০০ কি.মি.)। গ্রহাণুটি আজ এর ১৬ গুন অর্থাৎ ৩.৯ মিলিয়ন মাইল (৬.৩ মিলিয়ন কি.মি.) দূর থেকে ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৪৬১ মাইল গতিতে পৃথিবীকে অতিক্রম করবে। তাই এই গ্রহাণুটি নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নেই। 

Science Bee | Daily Science

এছাড়াও পল কোডাস, ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার পৃথিবীর নিকটবর্তী বস্তুগুলো নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের (NASA’s Center for Near-Earth Object Studies at the agency’s Jet Propulsion Laboratory in Pasadena, California) ম্যানেজার আরো জানিয়েছেন, “বর্তমানে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে তেমন কোনো গ্রহাণু আশেপাশে নেই।”

উল্লেখ্য, নাসার বিজ্ঞানীদের মতানুসারে তারা পৃথিবীর আশেপাশে ৯০% গ্রহানু (Near Earth Asteroids –NEAs) শনাক্ত করে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করেছেন। এক্ষেত্রে যে গ্রহাণুগুলো ০.৬ মাইল (১ কি. মি.) প্রশস্ত ও পৃথিবী থেকে ৪.৬ মিলিয়ন মাইল (৭.৫ মিলিয়ন কি. মি.)দূরত্বের মাঝে আসে তাদেরকে “সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পৃথিবী স্পর্শ করবে না এই উল্কাপিণ্ড। তবে নিজেদের NEAT (Near-Earth Asteroid Tracking) সিস্টেমের মাধ্যমে উল্কাপিণ্ডের গতিবিধির উপর নজর রাখছেন তারা। NEAT-এর প্রধান অনুসন্ধানকারী এলেনর হেলিন জানিয়েছেন, ‘বিপজ্জনক হতে পারে, এমন সব গ্রহাণু ও উল্কা সম্পর্কে তথ্য নিতে আমরা NEAT ব্যবহার করে থাকি।’

সাদিয়া বিনতে চৌধুরী / নিজস্ব প্রতিবেদক

Science Bee | Daily Science