কেন তারা এবার রসায়নে নোবেল পেল?

এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন জন গুডেনাফ,স্ট্যানলি হুইটিংহাম,আকিরা ইয়োশিনো।লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নতিকল্পে কাজ করে এ পুরস্কার পেলেন তাঁরা।

১৯ শতকের ৭০ দশকে বর্তমানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিংহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত স্ট্যানলি প্রথম ফাংশনাল লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরি করেন।প্রথম দিককার রিচার্জেবল ব্যাটারিগুলোতে ইলেকট্রোডে সলিড বস্তু ব্যবহার করা হত বলে ব্যাটারির ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেত।

স্ট্যানলির ব্যাটারির সুবিধা হল এতে লিথিয়াম আয়ন এনোড হিসেবে ব্যবহৃত লিথিয়াম থেকে ক্যাথোড টাইটেনিয়াম ডাইসালফাইডে যায়। টাইটেনিয়াম ডাইসালফাইডের মাঝের স্পেস গুলোতে লিথিয়াম আয়ন স্টোর করা থাকে। ব্যাটারি চার্জ হওয়ার সময় এই লিথিয়াম আয়ন বিপরীতে প্রবাহিত হয়।

ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসে কর্মরত প্রফেসর জন গুডেনাফ স্ট্যানলির এ কাজ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু তিনি ভাবলেন ক্যাথোড হিসেবে ধাতব ডাইসালফাইড ব্যবহার না করে যদি ধাতব অক্সাইড অক্সাইড ব্যবহার করা যায় তাহলে ব্যাটারির বিভব ক্ষমতা বাড়ানো কমানো সম্ভব হবে।ক্যাথোড হিসেবে কোবাল্ট অক্সাইড ব্যবহার করে তৈরি করা প্রফেসর গুডেনাফের ব্যাটারিটি স্ট্যানলির তৈরি করা ব্যাটারির চেয়ে দ্বিগুণ বিভব সম্পন্ন হয়।

জাপানের গবেষক আকিরা ইয়োশিনোর বানানো ব্যাটারিটি অধিক স্থিতিশীল, ওজনে হালকা ও চার ভোল্ট তৈরি করতে সক্ষম।তিনি বিশুদ্ধ লিথিয়ামের বদলে লিথিয়াম আয়ন বেস হিসেবে ব্যবহার করেন যা ব্যাটারির কার্যক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরির সময় পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেললেও এই ব্যাটারি ক্লিন এনার্জি টেকনোলজি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে উন্নতি ঘটিয়েছে,যা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমায়।

এর ফলে তারবিহীন ও ফসিল ফুয়েল মুক্ত সমাজ গঠন করে মানবজাতির উন্নতি ঘটানোয় এই তিন গবেষককে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।