করোনা প্রতিরোধী এন্টিভাইরাল ড্রাগ ‘রেমডেসিভির’ তৈরী করছে বেক্সিমকো

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ড্রাগ কোম্পানি বেক্সিমকো এই মাস থেকেই পরীক্ষামূলক এন্টিভাইরাল ড্রাগ রেমডেসিভির তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছে। কোম্পানির সিনিয়র এক্সিকিউটিভের ভাষ্যমতে, এটি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বেশ কার্যকরী।

করোনার আক্রমনে ডাক্তাররা যখন নিরুপায়, তখনই একদল বিজ্ঞানী খুলে দিয়েছেন সম্ভাবনার দুয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি গিলিইড সায়েন্স করোনা প্রতিহত করার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম রেমডেসিভির ড্রাগটি তৈরী করে।

করোনা রোগীদের সুস্থতা অর্জনে এই ড্রাগটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ অথোরিটি গত সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতালে এটি ইমার্জেন্সি ব্যবহারের জন্য অনুমতি দিয়েছে।

বেক্সিমকো’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকারী কোম্পানি ড্রাগটি বাইরে বিক্রির জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে প্রতি শিশির জন্য গুনতে হবে ৫০০০-৬০০০ টাকা। প্রত্যেক রোগীর জন্য ৫-১১ টি শিশির প্রয়োজন হতে পারে।

অতিরিক্ত খরচের কারনে বিকল্প পন্থা হিসেবে বেক্সিমকো এই ড্রাগটি দেশেই উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বেক্সিমকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশাবাদী বাংলাদেশ সরকার অতিদ্রুতই অর্থমূল্য দিয়ে ওষুধ উৎপাদনে বেক্সিমকোকে সাহায্য করবেন।

বেক্সিমকোর তৈরী রেমডেসিভির কিনতে দক্ষিন এশিয়ার প্রত্যেক রোগীকে গুণতে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬৬ হাজার টাকা।  মূলত রোগীর অবস্থা এবং কতগুলো শিশি প্রয়োজন তার উপর নির্ভর করেই ওষুধের খরচ নির্ধারণ করা হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকারী কোম্পানি গিলিইড সায়েন্স  সাড়ে ১০ লাখ শিশি তাদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে রোগীদের সাহায্য করার জন্যে।

ড্রাগের কার্যক্ষমতার উপর নির্ধারণ করে ড্রাগের মূল্য নির্ণয় করার প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল এন্ড ইকোনমিক রিভিউ (আইসিইআর) এর ভাষ্যমতে, ১০ দিনের  কোর্স পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় রেমডেসিভির উৎপাদনে গিলিইড সায়েন্স কোম্পানির খরচ হয় ৮০০ টাকা , কিন্ত বাজারে বিক্রি করতে গেলে এর দাম প্রায় ৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর দাম পুরোটাই রোগের তীব্রতার উপর নির্ভরশীল।

এগুলো পড়েছেন ?


অত্যধিক দামের কারনেই আন্তজার্তিক বাণিজ্য সংস্থার আইন অনুযায়ী পেটেন্টকৃত গিলিইড সায়েন্স কোম্পানিকে  অনুন্নত দেশগুলোতে এই ড্রাগের রপ্তানিতে নিরুৎসাহিত করা হয়।
বেক্সিমকোর কর্মকর্তার ভাষ্যমতে,  অনুন্নত দেশগুলোতে ও ইউরোপের কিছু দেশে বাংলাদেশের সরাসরি  ড্রাগ রপ্তানির অনুমতি আছে। সরকারের অনুমতি পেলেই দেশে এই ড্রাগের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির চিন্তাভাবনা করছে বেক্সিমকো।এর আগে ইবোলা ভাইরাসের আক্রমনে রেমডেসিভির উৎপাদন করলেও এটি ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছিলো। তবে করোনা প্রতিরোধে এই ড্রাগটি ফলপ্রসূ  – ড্রাগটি করোনা ভাইরাসের অনুলিপন ক্ষমতা ধ্বংস করে এবং শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভাইরাস থেকে রক্ষা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী এই ড্রাগের প্লাসিবো ট্রিটমেন্ট রোগীর হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা কমালেও মৃত্যুহার কমাতে ব্যর্থ হয়েছে।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই রেমডেসিভির বাজারে আসবে, রয়টার্সকে এমনটিই জানিয়েছেন বেক্সিমকোর এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা  ১৩,১৩৪ জন, মৃত্যু ২০৬ জনের। যদিও পুরো বিশ্বে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ।
সোর্স: New York Times 

ইকবাল হোসেন নাফিজ / নিজস্ব প্রতিবেদক