করোনা চিকিৎসায় কালোজিরা কি উপকারী নাকি শুধুই গুজব!-গবেষণা

আবু হুরায়রা ( মহান আল্লাহ তার উপর শান্তি বর্ষণ করুক) ব্যাখ্যা করেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “কালোজিরা মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের নিরাময় ওষুধ ” ( সহীহ বুখারি ৭.৭১.৫৯২) কিন্তু আমরা ধর্মের ব্যাখ্যার দিকে না যেয়ে প্রমাণ করে আসি বিজ্ঞান কী বলছে !

অনেক বছর আগে থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেমন প্রথাগত রোগের চিকিৎসায় কালোজিরা ইউনানি, আয়ুর্বেদি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে । কালোজিরার ওষুধি গুণাগুণ কে ইবনে সিনা তার ” Canon Of Medicine” বইয়ে “আল হাব্বা আল সাউদা এবং আল হাব্বা আল বারাকাহ ” বলে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।


এই কালোজিরা অনেকগুলো গুণের মধ্যে অন্যতম হলো এটি মূত্রবর্ধক, অ্যান্টি – হািপারটেনসিভ, অ্যান্টি – ডায়াবেটিক, অ্যান্টি – ক্যান্সার, ইমিউন – সংশোধক, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-হেলমিন্টিক, অ্যানালজেসিকস, অ্যান্টি- ফ্লামেটরি, গ্যাস্ট্রো -প্রোটেকটিভ, রেনাল-প্রতিরক্ষাকারক, অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ। (তথ্যসুত্র ১)

বর্তমানে আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, নোবেল করোনাভাইরাস ( কোভিড ১৯) এর ভ্যাক্সিন আবিস্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেছেন । বিভিন্ন রিসার্চ পেপার তাদের প্রাথমিক গবেষণায় কোভিড ১৯ সংক্রমণের প্যাথোফিজিওলজিতে এই মহামারী টি নিরাময়ে জন্য কিছু সুত্র দিয়েছেন।

করোনাভাইরাস স্মার্টফোনে প্রায় ৯
দিন জীবিত থাকতে পারে – গবেষণা


কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত রোগিদের বিভিন্ন লক্ষণ থেকে দেখা যায় মানবদেহের ইমিউনোমোডুলেশনের গুরুত্ব কতটুকু। জার্নাল অব অটোইমিউনিতে (তথ্যসুত্র ২) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে ICU তে ভর্তি হওয়া রোগীর গুরুতর ক্ষেত্রে TNF(alpha) ( Tumor Necrosis Factor Alpha) সহ উচ্চমাত্রার প্রো-ইনফ্লামেটরি সাইটোকাইনগুলি দেখা গেছে যা রোগের তীব্রতা দারুণভাবে বাড়িয়ে দেয়৷

তীব্র শ্বাসকষ্টের সংক্রমণ সিনড্রোমের সাথে যুক্ত কোভিড-১৯ এর প্যাথোলজিক্যাল অনুসন্ধান সম্পর্কিত দ্যা ল্যানসেটে (তথ্যসুত্র ৩) প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় লিম্ফোফেনিয়াকে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটি রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং মৃত্যু ঝুঁকি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

নেচার পাবলিকেশনের (তথ্যসুত্র ৪) আরেকটি চিঠিতে রিপোর্ট করা হয়েছে যে ইমিউনোগ্লোবিউলিন M এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন G এন্টিবডি তৈরিকারক এন্টিবডি সিক্রেটিং সেলের বৃদ্ধি করোনা আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ সেড়ে ওঠার আগে থেকেই রক্তে দেখা গেছে এবং সেগুলো লক্ষ্মণ সেড়ে যাওয়ার পরও ৭ দিন অবস্থান করতে পারে।

ইমিউন মডুলেশন হলো ইমিউন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রক সমন্বয়, কোভিড১৯ কতদিন থাকবে তা কেউ আমরা জানিনা, প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংক্রমণটি রোধ করতে পারে এমন তিনটি পদ্ধতি হল –
১.দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
২.ভ্যাক্সিন
৩.মানুষের আচরণগত উন্নতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেন চলা ৷

প্রত্যের রোগেরই নিরাময় আছে। কারোজিরার তেলের একটি অন্যতম উপাদান হলো থাইমোকুইনোন ( TQ) ( তথ্যসুত্র ৫) (পরবর্তী আলোচনায় শুধু টিকিউ বলবো) এই টিকিউ TNF Alpha থেকে প্রাপ্ত প্রদাহ কমানোর জন্য দারুণভাবে কার্যকর, এছাড়াও এটি লিম্ফো প্রোটেক্টিভ এবং ইমিউন মডুলেশনের জন্যও পরিচিত।

পালমোনারারি প্রটেকশনের পাশাপাশি এটি নেফ্রোপ্রটেকটিভ হিসেবে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস রোগে কাজ করে।এটি টেস্টিকুলার প্রটেকটিভ ফাংশন হিসেবেও কাজ করে। টিকিউ এর রয়েছে তীব্র রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যা শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত রোগের উপশমে দারুণ কার্যকরি।

স্প্রিনজার পাবলিকেশনে (তথ্যসুত্র ৬) কোষের চিকিৎসায় কালোজিরার তেল ( টিকিউ এক্সট্রাক্ট) এর ব্যবহার সাজেস্ট করেন যা এখন কোভিড১৯ এর রেপ্লিকেশন কমাতে দারুণভাবে কার্যকরি৷

এখনই সময় বিজ্ঞানী ও ডাক্তারদের কোভিড ১৯ মহামারী থেকে উত্তরণের কাজে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত এই উপকারী কালোজিরাকে কাজে লাগানো। টিকিউ এর ইমিউনোমডুলেশন এবং এর নিজস্ব স্বাস্থ্য উপকারিতাকে অবশ্যই কোভিড ১৯ মহামারী ঠেকাতে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।


পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন –
ডঃ সাকিল মঈনুদ্দিন,
ওরাল ও ম্যাক্সিলোফ্যাসিয়াল প্যাথোলোজিস্ট,
আল রাস ডেন্টাল কলেজ, কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।

তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন – drshakilm@gmail.com


মবিন সিকদার,
প্রতিষ্ঠাতা, সায়েন্স বী
রসায়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাস প্রসঙ্গ-
১।রক্তের গ্রুপ ‘A’ হলে করোনা ঝুঁকি বেশি, ‘O’ হলে সবচেয়ে কম – বলছে চীনা গবেষণা
২।লবণ মেশানো গরম পানি কি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করে ?-না
৩।করোনা যেভাবে আপনার শরীরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে !(ইন্টারেক্টিভ ডিজাইনসহ)
৪।ফ্যাক্ট চেক: (মিথ্যা) এক টুকরা লেবুতেই ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস
৫।আমেরিকা বা চীনের ষড়যন্ত্র নয়।করোনাভাইরাস এসেছে প্রকৃতি থেকেই-গবেষণা
৬।
করোনাভাইরাস স্মার্টফোনে প্রায় ৯ দিন জীবিত থাকতে পারে – গবেষণা