আমেরিকা বা চীনের ষড়যন্ত্র নয়।করোনাভাইরাস এসেছে প্রকৃতি থেকেই-গবেষণা

ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। এরপর চীন থেকে এটি দ্রুতগতিতে সাড়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

এখন বিশ্বের প্রায় ১৯৫ টি দেশ করোনাভাইরাস কবলের মধ্যে, প্রায় সাড়ে তিন লাখেরও বেশি লোক ভাইরাসটিতে আক্রান্ত এবং প্রায় ১৫ হাজার লোক এর সংক্রমণে ‍মৃত্যবরণ করেছে, বাদ যায়নি বাংলাদেশও, এখন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৩।

কিন্তু বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস সংক্রমণের পাশাপাশি শঙ্কা ও ভুল তথ্য, গুজবে আরও দিশেহারা অবস্থা পৃথিবীবাসী। মহামারির পাশাপাশি বিশ্বকে ‘তথ্যের মহামারির’ বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ।

এই প্রতিবেদন রোগটির উৎপত্তির বিষয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে নাকচ করে দিয়েছে বলে মত টেলিগ্রাফের

বৈশ্বিক উষ্ণতায় বরফের দেশে জেগে
উঠছে ভয়ঙ্কর রোগবাহী ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া


সার্স-কভ-টু নামের নতুন করোনাভাইরাসটি আসলে চীনের গবেষণাগারে তৈরি হয়েছে, সাধারণভাবে এমন একটি গুজব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছিল।
সবাই ভেবেছিল মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করতেই চীন এই ভাইরাস তৈরি করেছে কিন্তু ভুলবশত তা ছড়িয়ে যায় নিজ দেশেই৷
আবার এটিও গুজব ছড়ায় যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কোন ভাইরাস যা চীনকে ধ্বংস করতে তৈরি করেছে।


কিন্তু নতুন গবেষণার ফলাফল সব ধরণের গুজবকে নাকচ করে দিয়েছে যার ফলাফল বিশ্বখ্যাত রিসার্চ জার্নাল নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে, গবেষকরা করোনাভারাসটির জেনোম সিক্যুয়েন্স বিশ্লেষণ করেছেন যে মানুষ কোনভাবেই এটি তৈরি করেনি, প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভব হয়েছে সে বিষয়ে জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন।


সম্ভবত ভাইরাসটি একটি বাদুর অথবা বনরুই অথবা জাতীয় পিঁপড়াভুক প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে বলে ধারণা পেয়েছেন গবেষকেরা ।
গবেষণা প্রতিবেদনটির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, “আমাদের বিশ্লেষণ পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে, সার্স-কভ-টু গবেষণাগারে তৈরি করা হয়নি বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবর্তন করা ভাইরাস নয়।”

গবেষক দল ভাইরাসটির ‘স্পর্শ তন্তুর’ দুটি প্রোটিন উপাদান বিশ্লেষণ করেছেন। ভাইরাসটি মানুষ অথবা প্রাণি কোষের সঙ্গে সংযুক্ত হতে ও তার দখল নিতে এই স্পর্শ তন্তুগুলোই ব্যবহার করে।

ফ্যাক্ট চেক: (মিথ্যা) এক টুকরা লেবুতেই ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস


তারা দেখেছেন, ওই প্রোটিনের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য মানুষের কোষের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটাতে এতোটাই সক্ষম যে এটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফল ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এটি তৈরি হয়নি।

ভাইরাসটির ‘ব্যাকবোন’ বা সামগ্রিক মলিক্যুলার স্ট্রাকচার বিশ্লেষণেও এই ফলাফল প্রয়োগ করেন গবেষকরা।

কেউ যদি নতুন একটি করোনাভাইরাসের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে কাউকে ক্ষতি করতে চায় তবে তাকে মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টির জন্য পরিচিত একটি প্রাকৃতিক ভাইরাসের ব্যাকবোন থেকেই তা করতে হবে বলে লিখেছেন এই গবেষকরা।


করোনাভাইরাস প্রসঙ্গ-
১।রক্তের গ্রুপ ‘A’ হলে করোনা ঝুঁকি বেশি, ‘O’ হলে সবচেয়ে কম – বলছে চীনা গবেষণা

২।লবণ মেশানো গরম পানি কি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করে ?-না

৩।করোনা যেভাবে আপনার শরীরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে !(ইন্টারেক্টিভ ডিজাইনসহ)

৪।ফ্যাক্ট চেক: (মিথ্যা) এক টুকরা লেবুতেই ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস