1 min to read

আলাস্কা ট্রায়াঙ্গেলঃ রহস্য, কল্পনা ও বাস্তবতা

আপনারা সকলেই হয়তো খবরের কাগজ বা টেলিভিশনে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল সম্পর্কে কম বেশি শুনেছেন। এটি ফ্লোরিডা, পোয়ের্তো রিকো ও বারমুডার সাগরে ত্রি-কৌণিক আকৃতির একটি জায়গা। রহস্যেঘেরা এ জায়গাটিকে অনেকে শয়তানের ত্রিভূজ নামেও ডেকে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ছাড়াও আলাস্কাতে একটি রহস্যময় ট্রায়াঙ্গেল রয়েছে! চলুন আজ আমরা এই ট্রায়াঙ্গেলটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবো।

আলাস্কান ট্রায়াঙ্গেল উটিয়াজভিক, উত্তরের উপকূলীয় এলাকা (পূর্বে ব্যারো নামে পরিচিত ছিলো) থেকে দক্ষিণের অ্যাঙ্কোরেজ এবং দক্ষিণ- পূর্বের জূনো পর্যন্ত বিস্তৃত। বিশাল জনমানবহীন এলাকা এই ট্রায়াঙ্গেলের অন্তর্ভুক্ত। আলাস্কান ট্রায়াঙ্গেল বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, বরফ পর্বতশৃঙ্গ ও নির্জন এলাকা দ্বারা আবৃত এবং স্পষ্টভাবে এটি বিশ্বের অনিরাপদ স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।


প্রায়ই সেখানে বিমান, মানুষ গায়েব হয়ে যাওয়ার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে শোনা যায়। প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় সৈন্য দ্বারা পরিচালিত শত শত অনুসন্ধান ও উদ্ধার মিশনের মধ্যে খুব কমই সেখান থেকে মৃতদেহ বা জীবিতের সন্ধান পাওয়া গেছে।

আলাস্কান ট্রায়াঙ্গেল সর্বপ্রথম নজরে এসেছিলো ১৯৭২ সালে মার্কিন হাউস মেজরিটি লিডার হেল বোগসের বিমানটি অ্যাঙ্কোরেজ ও জূনো এর মধ্যবর্তী কোথাও নিখোঁজ হওয়ার সময়। তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে দেশের অন্যতম বৃহত্তম অনুসন্ধান-উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল।
একযোগে ৪০ টি সামরিক বিমান, ৫০ টি বেসামরিক বিমান এবং টানা ৩৯  দিন ৩২,০০০ বর্গ মাইল অঞ্চলজুড়ে সৈন্যবাহিনী অনুসন্ধানে নেমেছিলো কিন্তু কোন ইতিবাচক ফল পাওয়া যায় নি। এই ঘটনার পর থেকে কংগ্রেস সমস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমানগুলিতে জরুরি লোকেটর ট্রান্সমিটার স্থাপনের আদেশ দিয়ে একটি আইন পাস করেছিলো।

শুধু মাত্র হেল বোগসের বিমানই এখানে নিখোঁজ হয়নি।১৯৫০ সালে, ৪৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি সামরিক বিমান কোন চিহ্ন ছাড়াই নিখোঁজ হয়েছিলো। কোন চিহ্ন ছাড়াই নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই অঞ্চলের ক্ষেত্রে সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৮৮ সাল থেকে আলাস্কান ট্রায়াঙ্গলে ১৬,০০০ এরও বেশি লোক নিখোঁজ হয়েছে।  এক রিপোর্টে এসেছে আলাস্কান ট্রায়াঙ্গলে প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে মোট চারজন নিখোঁজ হয়েছে।

যে ১০ কার্যকর কৌশল আপনার সাইবার সুরক্ষাকে আরো মজবুত করবে!

আলাস্কান ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনার কোন কমতি নেই। নিখোঁজ হওয়ার কারণ ঘাটতে গিয়ে অনেকে অনেক ধরনের মতবাদ দিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করে এটি আসলে একটি অতিপ্রাকৃত ঘটনা। আবার অনেকে মনে করেন ভিনগ্রহের প্রানীরা এর সাথে জড়িত। 

যাহোক, সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখাটি হলো, সেখানকার ভৌগোলিক কারণ এর পেছনে দায়ী। বিভিন্ন প্রমাণাদি থেকে এটা পাওয়া গেছে যে কিছু মানুষ এবং কিছু গণমাধ্যম সাধারণ ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে, আসলে সেখানে অতিপ্রাকৃত কোন কিছুর উপস্থিতিই নেই।

সেখানকার ঘন হিমবাহ, বৃহৎ আকৃতির গুহা, দালানের সমান বিশাল ফাটলগুলো বিমান দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য যথেষ্ট। একবার যদি কোন বিমান ক্র‍্যাশ করে নিচে পতিত হয় বা কোন ভ্রমনকারী যদি আটকা পড়ে যায়, জনমানবশূন্য হিমবাহ এই দুর্গম এলাকায় সহজেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়া সম্ভব।